দক্ষিণাঞ্চলে শীত বাড়ছে

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৩৫

দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে শীত বাড়তে শুরু করায় জমজমাট হচ্ছে গরম পোশাকের মার্কেট। শীত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে শুরু করেছে শীতবস্ত্র ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির দাম। পৌষ মাসেও এখানে তেমন কোনো শীতের প্রকোপ ছিল না। কিন্তু মাঘ মাসের শুরুতেই হাড় কাঁপানো শীত শুরু হয়েছে। দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষ শীত বস্ত্রের অভাবে বিপাকে পড়েন। মেঘনা নদীর তীরবর্তী হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মীর্জাগঞ্জ ও ভোলার বেড়িবাঁধে ছিন্নমূল মানুষ শীত যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করছে। গত কয়েকদিন যাবত্ রাত বাড়ার সাথে সাথে শীত বাড়তে শুরু করেছে। গভীর রাতে এ সব এলাকার ছিন্নমূল মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত  নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করে আসছে। একটু উষ্ণতার আশায় তাদের প্রতীক্ষা করতে হয় ভোরের সূর্য ওঠা পর্যন্ত। নদীবেষ্টিত চরগুলোতে শীতবস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ চরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রকোপ আরো বেশি। গ্রাম-গঞ্জের লোকজন শীতের পোশাক ক্রয় করার জন্য ভিড় করছেন নগরীর মহসিন মাকের্টসহ শপিং মল ও বিপণী বিতানগুলোতে। শীতের পোশাক বিক্রির মার্কেটগুলোতে শহুরে মানুষেরও ভিড় বাড়তে শুরু করছে।  নগরজীবনেও শীতের তীব্রতা বেড়ে চলছে।

 
চরাঞ্চলের মানুষের মতই নগরীর ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। নগরীর  লঞ্চঘাট, নতুল্লাবাদ, রূপাতলী বাস টার্মিনালে ছিন্নমূল মানুষদের শীতের পোশাক কেনার ক্ষমতা নেই। দরিদ্ররা ফুটপাত থেকে গরম পোশাক ক্রয় করছেন। মধ্যবিত্তরা শীত থেকে বাঁচার জন্য মাকের্টে ছুটছেন। গরম পোশাকের পাশাপাশি তারা উষ্ণতাবর্ধক রুম হিটার ও পানি গরম করার ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করছেন। গরম পোশাকের মার্কেট বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে এখানে ইলেকট্রিক পণ্য ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। প্রতিবছর শীত এলেই বাড়ে এসব ইলেকট্রিক সামগ্রীর দাম। এবার  মৌসুমের শুরুতে হিটার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। ভারত, চীন, জাপানসহ নানা দেশ থেকে আমদানি করা এসব হিটারে বিদ্যুতের ব্যাপক অপচয় হলেও সৌখিন ক্রেতা ও বিত্তবানরা তা ক্রয় করছেন। বাসা-বাড়ির পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে এসব ব্যবহার হচ্ছে। বিদ্যুত্ বিল নিজেদের পরিশোধ করতে হয় না বলে কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা এক কক্ষের জন্য কয়েকজনে মিলে একটি রুম হিটার কিনতে কার্পণ্য করছে না। রুম হিটারে প্রতিটি রুমের জন্য মাসে ৮শ’ থেকে হাজার টাকা বিদুত্ বিল খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
 
কাটপট্টি, গীর্জামহল্লা, সদর রোড ও মহসিন মার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে গরম পোশাক বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। কাটপট্টি রোডের ইলেকট্রিক মার্কেটগুলোতে পানি গরম করার হিটারও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, শীত পড়তে শুরু করায় বিদেশি গরম পোশাক ও ইলেকট্রিক জিনিসপত্রের বিক্রি বেড়েছে। গত ৮/১০ বছর ধরে প্রতি শীত মৌসুমে গড়ে ৪/৫ টি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যায় এ অঞ্চলের উপর দিয়ে। চারদিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী একেকটি শৈত্য প্রবাহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতই জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে।

ইত্তেফাক/এএন