ছাতকে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম!

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:০৯

সুনামগঞ্জের ছাতকে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়কে সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মানুষের দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ছাতক-নোয়ারাই সড়কের কাজ শুরু হয় গত বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে। কাজের শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারা কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

 
জানা যায়, নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক পাকাকরণ করা হয় ১৯৯৬ সালে। পরবর্তীতে ২০০৩-০৪ অর্থ বছরে দ্বিতীয় দফা সংস্কার কাজ করার পর প্রায় এক যুগও এ সড়কে আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর চলাচল করতে হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। সড়ক সংস্কারের দাবিতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয়রা। দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত বছরের শেষের দিকে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৬শ’ টাকা ব্যয়ে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়। এরপর নভেম্বরে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। সংস্কার কাজের  দায়িত্ব পান দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার ঠিকাদার আমিনুল হক। এ সড়কের পৌরসভার অংশ থেকে কাজ শুরু করার সময় কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন পৌর কাউন্সিলর লিয়াকত আলী। পরে নোয়ারাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুবেদ আলী তালুকদারসহ স্থানীয় লোকজন একই অভিযোগ এনে কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান।
 
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের সাথে নোয়ারাই বাজার থেকে খুদখাল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের অনেকাংশেই মিল রয়েছে। পুরাতন রাস্তা ভেঙে রাস্তায় ব্যবহূত পুরাতন রড উঠাতে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশের গাইড ওয়াল ও ব্লক ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাথরের পরিবর্তে রাস্তা ভাঙা কংক্রিট দিয়ে পুনরায় সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে খুবই নিম্নমানের বালু। ফলে নির্মাণ কাজের গুণগতমান ও ফিনিশিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে সড়ক সংস্কারের জন্য প্রায় দুই মাস ধরে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এ সড়ক পথে যাতায়াত করা নোয়ারাই-বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একদিকে কাজের শম্ভুকগতি, অন্যদিকে প্রায় একমাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সরজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার লোকজন।
 
নোয়ারাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুবেদ আলী তালুকদার জানান, সড়ক সংস্কার কাজের সরকারি বরাদ্দ এলেও ঠিকাদার দায়সারা কাজ করে পুকুর চুরি করছেন। রাস্তা ভাঙা কংক্রিট, পুরাতন রড নিম্নমানের বালু দিয়ে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা প্রকৌশলী সমরেন্দ্র দাস তালুকদার জানান, পুরাতন রড ও সড়ক ভাঙা কংক্রিট ব্যবহারের বিষয়টি ওয়ার্ক অর্ডারে অনুমতি দেওয়া আছে। এতে রাস্তা মজবুতের পাশাপাশি সরকারের সাশ্রয় হয়েছে ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া রাস্তার সংস্কার কাজে অন্য কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএন