অমি-মাশরাফিতে উড়ছে আবাহনী

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:০৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে সর্বশেষ ছয় ম্যাচে ৯৩ রান করেছিলেন ইমরুল কায়েস, সর্বোচ্চ ৪৮। এদিকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের সমীকরণ থেকেও তার ছিটকে পড়ার বাতাস ক্রিকেটাঙ্গনজুড়ে। গতকাল সেই ইমরুলের ব্যাটই সেঞ্চুরির মাধ্যমে কথা বলল। দুর্দান্ত সব শটের পসরায় খেললেন ১২৬ রানের ইনিংস।

প্রিমিয়ার লিগে নেমেই দুই উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। পরের তিন ম্যাচে উইকেট শূন্য তিনি। গতকাল বল হাতে জ্বলে উঠলেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে চতুর্থবার ছয় উইকেট নিয়ে দিনটা রাঙালেন মাশরাফি।

বিকেএসপিতে গতকাল আবাহনী-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ম্যাচে ইমরুল, মাশরাফি ছাড়াও আরেকজন পারফরমার ছিলেন। আবাহনীর হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন জহুরুল ইসলাম। জহুরুল, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটে গড়া আবাহনীর স্কোরটাকে চোখ রাঙাচ্ছিল ইমরুলের সেঞ্চুরি। কিন্তু দুর্দান্ত বোলিংয়ে গাজী ক্রিকেটার্সের প্রচেষ্টাকে হারের অন্ধকারে ঢেকে দেন মাশরাফি।

গতকাল সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে গাজী ক্রিকেটার্সকে ২৯ রানে পরাজিত করেছে আবাহনী। সাত ম্যাচে আবাহনীর এটি ষষ্ঠ জয়। সমান ম্যাচে গাজী ক্রিকেটার্সের পঞ্চম হার। দুই সেঞ্চুরির ম্যাচেও বল হাতে আবাহনীর জয়ের নায়ক মাশরাফি। ৪৬ রানে ছয় উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

টসে হেরে আগে ব্যাট করা আবাহনী ছয় উইকেটে ২৮৬ রান তুলেছিল। আবাহনীর ইনিংসটা আবর্তিত হয়েছে জহুরুলের ব্যাটে। একপ্রান্ত আগলে খেলা এই ওপেনার আউট হয়েছেন ইনিংসের শেষ ওভারে। ৮০ বলে পঞ্চাশের পর ১২৪ বলে লিস্ট-এ ক্রিকেটে চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে মোসাদ্দেকের সঙ্গে ১৪৫ রানের জুটি গড়েছিলেন জহুরুল। ১৩৮ বলে ১৩০ রানের (১৪ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলেছেন তিনি। মোসাদ্দেক ৭১, সৌম্য ২৯, ওয়াসিম জাফর ১৯, শান্ত ১১ রান করেন। গাজী ক্রিকেটার্সের নাসুম, কামরুল ইসলাম রাব্বি দুটি করে উইকেট পান।

জবাবে গাজী ক্রিকেটার্স ৪৮.৪ ওভারে ২৫৭ রানে অলআউট হয়। রান তাড়া করতে নেমে ৫৩ রানে দুই উইকেট হারালেও তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক ইমরুলের স্ট্রোক প্লে ব্যাটিংয়ে ভালোই জবাব দিচ্ছিল দলটি। তৃতীয় উইকেটে শামসুর রহমানের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়েন ইমরুল। শামসুর (৩০) রানআউট হলে ভাঙে এ জুটি। ১ রানের ব্যবধানে পারভেজ রসুলও (১) বিদায় নেন। ৫২ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর লিস্ট-এ ক্রিকেটের দশম সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করেন ইমরুল ১০০ বলে।

সেঞ্চুরি শেষে দলকে টেনে চলার দায়িত্বটা পূর্ণ করতে পারেননি এই বাঁহাতি। মাশরাফি শিকার হওয়ার আগে ১১৮ বলে ১২৬ রান করেছেন তিনি। যেখানে চার-ছক্কায় করেছেন ৯০ রান (১৫ চার, ৫ ছয়)। ইমরুল যাওয়ার পর কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়ানো তৌহিদ তারেককেও (৩৯) ফিরিয়েছেন মাশরাফি। পরে সাইফউদ্দিনকে নিয়ে প্রতিপক্ষের ইনিংসের লেজটা মুড়ে দিয়েছেন এ অভিজ্ঞ পেসার। মাইশুকুর ১৫, আবু হায়দার রনি অপরাজিত ১৬ রান করেন। আবাহনীর সাইফউদ্দিন নেন দুটি উইকেট।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী : ৫০ ওভারে ২৮৬/৬ (জহুরুল ১৩০, মোসাদ্দেক ৭১, সৌম্য ২৯, ওয়াসিম জাফর ১৯, শান্ত ১১; নাসুম ২/৪৭, কামরুল ইসলাম রাব্বি ২/৭০, পারভেজ রসুল ১/৩৪, আবু হায়দার রনি ১/৬১)

গাজী ক্রিকেটার্স : ৪৮.৪ ওভারে ২৫৭ (ইমরুল ১২৬, তৌহিদ তারেক ৩৯, শামসুর ৩০, আবু হায়দার রনি ১৬*, মাইশুকুর ১৫, সাজ্জাদুল ১৪, মেহেদী হাসান ১০; মাশরাফি ৬/৪৬, সাইফউদ্দিন ২/৬৩, সানজামুল ১/১৭)

ফলাফল : আবাহনী ২৯ রানে জয়ী