খাগড়াছড়ির রামগড় সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ভারত। সেদেশের ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) নামে সংস্থাটি অনলাইন দরপত্রটি আহ্বান করে।
ত্রিপুরার বহুল প্রচারিত পত্রিকা দৈনিক সংবাদ ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে ১২ জানুয়ারি দরপত্র বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়। ফেনী নদীর উপর এক্সটা ডোজড/ ক্যাবল স্টেইড আরসিসি সেতু নির্মাণের দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি।
এদিকে, গতকাল বৃহষ্পতিবার ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের উদয়পুর সেক্টরের আইজি মি. ইউপি সারেনঙীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা মৈত্রী সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সীমান্তের ওপাড়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রামগড়ের মহামুনি এলাকার বিপরীতে ভারতের সাব্রুম মহকুমার সীমান্তবর্তী আনন্দপাড়া ও নবীনপাড়ায় সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত এলাকাটি তাঁরা বেলা একটার দিকে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকদলে বিএসএফের ডিআইজি(অপারেশন) ডিকে বোড়া, ৫১ বিএসএফের কমান্ডিং অফিসার জিএন মিনাসহ মহকুমা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
জানা যায়, প্রায় ১০০ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয় করে সেতুটি নির্মাণ করবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আর্ন্তজাতিক মানের দুই লেনের এ সেতুতে থাকবে ফুটওয়ে এবং এ্যাপ্রোচ রোড। নির্মাণের সময়সীমা ধরা হয়েছে দুই বছর পাঁচ মাস। এদিকে ত্রিপুরার আগরতলা থেকে প্রকাশিত ডেইলি দেশের কথা পত্রিকায় ১৫ জানুয়ারি ‘ফেনী সেতুর অনলাইন টেন্ডার ডাকা হলো’ শিরোনামে প্রকাশিত এক রির্পোটে বলা হয়, ফেনী নদীর উপর প্রস্তাবিত এই আর্ন্তজাতিক সেতু নির্মিত হলে শুধু ভারতের পূর্বোত্তরই নয়, খুলে যাবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সেতুটি হলে বাংলাদেশের সঙ্গে সড়কপথে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোর বাণিজ্যিক আদানপ্রদানের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কাছে এসে যাবে চট্টগ্রাম নৌ বন্দর। সমুদ্র পথে পণ্য পরিবহনের সুযোগও মিলবে।
ইত্তেফাক/এএম।
