বাঁশবাড়িয়া-তিলাবদুরী রাস্তা খানাখন্দে ভরা!

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:০৮

এলজিইডির আওতাধীন রাণীনগরের বাঁশবাড়িয়া-তিলাবদুরী গ্রামীণ রাস্তা খানাখন্দে ভরপুর। দেখে মনে হবে এ যেন রাস্তা নয়, ছোট ছোট পুকুর। এতে প্রতিনিয়তই যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, আর ঘটেই চলেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

রাণীনগর উপজেলার শেষ আর আত্রাই উপজেলার শুরু এই দুই সীমানার মাঝখানের মাত্র প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা বর্তমানে খানা-খন্দকে ভরা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে চলাচলকারী সাধারণ মানুষদের জন্য। এই রাস্তা দিয়ে তিলাবদুরী, জামগ্রাম, পোঁওয়াতাপাড়া, তেঘড়, বাঁশবাড়িয়া, আকনা, ঝিনা ও শাহাগোলাসহ প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষদের প্রতিনিয়তই চলাচল করতে হয়। চলাচলের জন্য এই রাস্তাটি একমাত্র পথ হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এইটুকু রাস্তার অধিকাংশ স্থানে ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় বর্ষা মৌসুমে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে হাঁটু পানি জমে থাকে। যার কারণে দিনে কিংবা রাতে চলাচলের সময় গর্তে পড়ে উল্টে পড়তে হয় মানুষদের। দীর্ঘদিন যাবত্ এসব বড় বড় গর্তসহ রাস্তার কোনো সংস্কারের কাজ না করায় আজ চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

তিলাবদুরী গ্রামের সোহেল আরমান, সাখাওয়াতসহ অনেকেই বলেন, আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করি। যার কারণে দীর্ঘ সময় পার হলেও গ্রামীণ এই অবহেলিত মরণফাঁদ রাস্তায় এখনো পর্যন্ত আধুনিকতার কোনো ছোঁয়াই লাগেনি। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অনেকবার জানানোর পরও রাস্তাটি এখনো বেহাল দশায় পড়ে আছে।

স্থানীয় ভ্যান গাড়িচালক সাইফুল ইসলাম, ফারুক হোসেনসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ, তাই কারো নজর আমাদের ওপর পড়ে না। এইটুকু রাস্তার জন্য আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান গাড়ি চালাতে হয়। অনেকবার ভ্যান উল্টে যাত্রীসহ অনেকেরই হাত-পা ভেঙে গেছে। বিশেষ করে চরম বিপদে পড়তে হয় বর্ষা মৌসুমে।

বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম শফু বলেন, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য সকল কাগজপত্রাদি উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে জমা দিয়েছি। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান মিঞা বলেন, এই রাস্তার বেহাল দশা সংস্কারের জন্য উপর মহলে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।