নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ অজানা রোগে ভুগছে টিটু দেবনাথ (২৪) ও মিটু দেবনাথ (১৯) নামে দুই সহোদর। অজানা রোগে পঙ্গুত্ব বরণ করে বর্তমানে তারা চিকিৎসার অভাবে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের আকুতি তারা অন্য দশজন স্বাভাবিক মানুষের মত বাঁচতে চায়।
কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের খালিজুড়া গ্রামে এই দুই সহোদরের বাড়ি। তারা খালিজুড়া গ্রামের চায়ের দোকানদার অখিল দেবনাথের ছেলে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন তাদের উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে তারা ভালো হতে পারে।
জানা গেছে, উপজেলার খালিজুড়া গ্রামের চায়ের দোকানদার অখিল দেবনাথের বড় ছেলে টিটু দেবনাথ ছোটবেলা থেকে সম্পূর্ণ ভালো ছিল। অন্য ছেলেদের সঙ্গে সুস্থভাবে হাঁটাহাঁটি, দৌড়াদৌড়িসহ খেলাধুলা করে আসছিল। সুস্থ্য অবস্থায় স্কুলে যাওয়া-আসা করত। ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে টিটু।
প্রায় ১২ বছর বয়স থেকে টিটুর শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসতে থাকে। প্রথম প্রথম স্কুলে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে যেত। এমনকি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ও পড়ে যেত। এভাবে আস্তে আস্তে তার চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ডাক্তার-কবিরাজের মাধ্যমে টিটুকে চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বহু টাকা পয়সা খরচ করে সর্বশান্ত হয়ে বর্তমানে অভিভাবক হতদরিদ্র অখিল দেবনাথ চিকিৎসা বন্ধ রেখেছেন। টিটুর বর্তমান বয়স ২৪ বছর। একইভাবে টিটুর ছোট ভাই মিটু দেবনাথও ৭ বছর বয়স থেকে বড় ভাইয়ের মত পঙ্গু হয়ে যায়। বর্তমানে মিটুর বয়স ১৯ বছর। মিটুও ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। বর্তমানে টিটু ও মিটু দুই ভাই গৃহবন্দী অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন আর বিছানায় শুয়ে-বসে শুধু মৃত্যুর প্রহর গুণছে।
শুধু তাই নয়, একই রোগে আক্রান্ত হয়ে অখিল দেবনাথের ১৮ বছরের এক কন্যা সন্তান মারা যায় বলে জানা গেছে। লিটু দেবনাথ (১৪) নামে তার আরেক ছেলে এখন পর্যন্ত সুস্থ্য রয়েছে। কিন্তু লিটুও কখন আবার পঙ্গু হয়ে যায় এ দুশ্চিন্তায় দিশেহারা দরিদ্র অভিভাবক অখিল দেবনাথ।
তাদের পিতা অখিল দেবনাথের সঙ্গে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্তানদের চিকিৎসা করিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। কোনো সুফল পাইনি। তাই অর্থাভাবে বর্তমানে তাদের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসার অভাবে আমার দুই সন্তান এখন মৃত্যুপথযাত্রী। ডাক্তার বলেছে উন্নত চিকিৎসা করতে পারলে হয়তো তারা ভাল হতে পারে। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার করানোর মত আর্থিক ক্ষমতা আমার নেই। আমি তাদের চিকিৎসার পিছনে আমার যা ছিল সবকিছু ব্যয় করে এখন আমি সর্বশান্ত। বর্তমানে চায়ের দোকান একমাত্র ভরসা। এখান থেকে যা আসে তা দিয়েই কোনোরকম সংসার চালাচ্ছি’।
এদিকে তাদের মা অঞ্জলী রানী দেবনাথ সন্তানদের দুরাবস্থার কথা বলতে গিয়ে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি।
রোগাক্রান্ত টিটু এবং মিটু দেবনাথ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা বাঁচতে চাই। ছোটবেলায় যেভাবে ভালো ছিলাম, সেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চাই’।
ইত্তেফাক/এএন
