বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে কোনো সংলাপ নয় : হানিফ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৭, ১৯:৫৬

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। কারণ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া খুনি, তার স্বামী জিয়াউর রহমানও একজন খুনি, ক্ষমতার জন্য ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুন করেছিল জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করেছিল। যে দল খুনিদের লালন-পালন করে এবং যে দলের প্রধানরা খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হতে পারে না।

শনিবার বিকেলে 
লক্ষ্মীপুর শহরের মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এ কথা বলেন। 

 

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা, কিন্তু ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে আমাদেরকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। তারপর স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে এ দেশকে ধ্বংস করে বিশ্ব দরবারে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করেছিল। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে গত ৮ বছরে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছে। বিশ্ব নেতারা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য মডেল হিসেবে দেখার তাগিদ দিচ্ছে।

 

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আমরা এখন আর পিছিয়ে নেই। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। বর্তমানে দেশে খাদ্যে ঘাটতি নেই। দেশে এখন ১৫০০ মেঘা ওয়াট  বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আশা করি, ২০২১ সালে আমাদের ৩০ হাজার মেঘাওয়াট  বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। দেশে ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করে স্বাস্থ্য সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছি। জানুয়ারি মাসের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীর হাতে নতুন বই পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব দরবার থেকে পুরস্কার নিয়ে আসছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরও বিএনপি নেত্রী নির্বাচন বানচালের নামে দেশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল দীর্ঘদিন। আগুন সন্ত্রাসের নামে ২৩১ জনকে হত্যা ও ২ হাজার লোককে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছিল। এসব ঘটনার পরেও যে সব সুশীল সমাজ নামধারী লোকজন নির্বাচনের নামে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার কথা বলেন, তাদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন উন্নয়নের নেত্রী আর সন্ত্রাসের নেত্রীর সঙ্গে কখনো সংলাপ হতে পারে না।


জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুর নাহার লাইলী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দী, লক্ষ্মীপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্যা আল মামুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সামছুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মো. আবু তাহের, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহউদ্দিন টিপু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এএন/ইউবি