দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম বানান যে দৃষ্টিহীন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ১৩:৩৯
কথায় আছে, 'প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপলব্ধি করার জন্য চর্ম চক্ষুর থেকেও বেশি প্রয়োজন মানস চক্ষুর'। যার উদাহরণ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের নর্থ বেঙ্গলের আলিপুরদুয়ার জেলার পরপার গ্রামপঞ্চায়েতের হরিদাস রায়।
 
সেই সাত বছর বয়সে হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। কিন্তু তাতে কী! মনের চোখ দিয়ে যেন দেখতে পান সবকিছু ৩০ বছর বয়সী মানুষটি। আর সেই উপলব্ধি থেকে একের পর এক সৃষ্টি করে চলেছেন তিনি। নিজের হাতে তৈরি করেন পুতির ফল-মূল, ফুলদানি, লেডিজ ব্যাগ থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী।
 
কিন্তু এই কাজ শেখা যে সহজ ছিল না তা সহজেই অনুমেয়। হরিদাসের মতে, দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর আর পাঁচটা শিশুর থেকে আলাদা হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি।
 
পড়াশুনা চলতে থাকে জেলার একটি 'ব্লাইন্ড স্কুলে'। সেখানে শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তবে লড়াইয়ের ইতি টানেননি। শুরু করেন জীবন সংগ্রামের নতুন লড়াই। প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন হাতের কাজের। সাত মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে শুরু করেন হাতের কাজ।
 
চোখে না দেখতে পেলেও বাস্তবের আপেল, কমলালেবু, কলা, আনারসের প্রতিকৃতি তৈরি করতে শুরু করেন। আস্তে আস্তে বানাতে শুরু করেন ফুলিদানি, লেডিজ ব্যাগ-সহ আরও অন্য শিল্পকর্ম।
 
হরিদাস জানান, অন্ধত্ব জয় করে শিল্পকলায় পারদর্শী হলেও আর্থিক অনটন এখন নতুন প্রতিবন্ধকতা। তার এখন ইচ্ছা শিল্পকর্মকে চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে না রেখে খোলা বাজারে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু আর্থিক কারণে তা হয়ে উঠেছে না।
 
ইত্তেফাক/এএম