ঐতিহ্য হারাচ্ছে মানিকগঞ্জের ১৫০ বছরের হাজারি গুড়

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:৪১

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঝিটকার হাজারি গুড় ঐহিত্য হারাতে বসেছে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি খেজুরের এ গুড় দেশ-বিদেশে এক সময় সমাদৃত ছিল। তবে এখন তা স্বাদে ও মানে আগের ঐতিহ্যের ধারে কাছেও নেই। উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় এক শ্রেণির গাছি ক্রেতাদের নকল ও ভেজাল হাজারি গুড় দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ আছে।

জেলার  হরিরামপুর উপজেলায় ১৫০ বছরের পুরনো হাজারি গুড়ের সুনাম আজো কোনোমতে টিকে আছে। এটি টিকিয়ে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী হাজারি পরিবারের শতাধিক গাছি। তারা একই পরিবারের শাখা প্রশাখা।

মানিকগঞ্জের দুটি পণ্যের সুনাম এক সময় বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। একটি তিল্লির দই, অন্যটি ঝিটকার হাজারি গুড়। ঝিটকার হাজারি গুড় এক সময় ইংল্যান্ডের রানীকেও উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। হাজারি গুড় প্রথম উৎপাদন করেন মিনহাজ উদ্দিন হাজারী। তার নামেই এ গুড়ের নামকরণ করা হয়।

বৃহত্তম ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে খেজুরের গাছ দেখা যায়। এসব খেজুর গাছের দুই-তৃতীয়াংশই মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে জন্মে থাকে। শীতে খেজুরের রস- গুড় উৎপাদনে পেশাদার গাছি, কুমার, কামার, জ্বালানি ব্যবসায়ী, পরিবহনের জন্য ট্রাক মালিক, চালক, ভ্যানচালক, শ্রমিক ও আড়তদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সংযুক্ত হন।

 

তবে কিছু অসাধু গুড় ব্যবসায়ী এক ধরনের হাজারী সদৃশ সাদা রঙের গুড় তৈরি করে থাকেন। ওইসব নকল গুড়ে খোদাই করে হাজারি লিখে বাজারজাত করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গুড় তৈরির সময় এ অসাধু ব্যবসায়ীরা ময়দা, চিনি, পাউডার ও অন্যান্য কেমিক্যাল মিশিয়ে নকল হাজারি গুড় উৎপাদন করছেন। এতে করে দিন দিন হাজারি গুড়ের ঐতিহ্য, সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিবছর কয়েক হাজার খেঁজুরগাছ কেটে ইটভাটার লাকড়ি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে। এ গুড় উৎপাদনের উৎস খেঁজুরগাছ এভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবিনা ফেরদৌস বলেন, গুড়ে কেমিকেল, চিনি বা অন্যান্য পদার্থ আছে কিনা তা পরীক্ষার মতো যন্ত্র আমাদের কাছে নেই। গুড় উৎপাদনকারী সব গাছি জেলা প্রশাসকের কাছে থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সাধারণ জনগণের প্রাণের দাবি সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে এই গুড় শিল্পকে রক্ষা করা হোক।

ইত্তেফাক/এএন/ইউবি