জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা এবং এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে এ ধরনের নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং এর আলোকে কমিটি গঠন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালককে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়।
গত বছর ৪ নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়। এই নির্দেশিকার আলোকে গত ১২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্দেশিকা প্রণয়ন ও কমিটি গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন নাজিমউদ্দিন, আজিজুর রহমানসহ নয় মুক্তিযোদ্ধা। রিটে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২ অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতাবলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল দুই লাখ ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়ন করেছে। এই নামের তালিকা গেজেট আকারেও প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশ করার ফলে এটিই চূড়ান্ত। তবে যদি কেউ এই তালিকায় ভুল করে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আইনে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের পুরো তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা আইনে কাউন্সিলকে দেওয়া হয়নি। রিটে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। কিন্তু স্বার্থ সংরক্ষণ না করে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নির্দেশিকা ও কমিটি করা হয়েছে এতে সামাজিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হেয় করা হয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। শুনানিশেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।
অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের গেজেট প্রকাশের পর এভাবে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো বিধান আইনে নেই। অথচ যাচাই-বাছাই করতে নির্দেশিকা ও কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনবিরোধী।
ইত্তেফাক/এসএসএ
