টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সোহরাব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছেন একজন সহকারী শিক্ষক। ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। শিক্ষক সংকটে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হচ্ছে। ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়া।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চল গাবসারা ইউনিয়নের চর রেহাই গ্রামে বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ১৫০০ বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের অধীন সোহরাব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৪ সালে নির্মাণ করা হয়। সে সময় বিদ্যালয়টিতে অন্যত্র বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে এনে দুইজন শিক্ষক দেয়া হয়। ওই দুইজন শিক্ষক পরবর্তীতে স্ব স্ব বিদ্যালয়ে চলে গেলে আবারও শিক্ষক শূন্য হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা সভাপতি সোহরাব আলীর প্রচেষ্টায় পুনরায় নতুন করে দুইজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে এনে বিদ্যালয়ে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করে। পরে ওই দুইজনের একজন দেড় বছরের সরকারি ট্রেনিংয়ের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে চলে গেছে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ক্লাস কার্যক্রম। ফলে বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের অভাবে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে না। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে গেছে বলে জানিয়েছে এলাকার মানুষ। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় তিনশ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কোনো কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও সেখানে শিক্ষক রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শিক্ষকরা চরাঞ্চলের বিদ্যালয় থেকে টাকা বিনিময়ে অন্যত্র বদলে হয়ে যায়। ফলে শিক্ষক সংকটে ভুগে চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো।
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠালেও তারা থাকতে চায় না। শিক্ষক না থাকার কারণে ঠিকমত ক্লাস হয় না। তারাও আর স্কুলে থাকতে চায় না। আশে পাশে অন্যকোন স্কুলও নেই সেখানে ভর্তি করবো। ফলে ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয় বিমুখ হচ্ছে। অনেকে আবার ঝড়ে গেছে বিদ্যালয় আসছে না।
সোহরাব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কর্মকার জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে একা ক্লাস করা সম্ভব হয় না। একদিকে ক্লাস নেই অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বাইরে গিয়ে হইচই শুরু করে দেয়। বিদ্যালয়ের সকল কাজ আমাকে একা করতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট থাকলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসবে না। ঝড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহরাব আলী জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক চাইলে তারা আমাকেই শিক্ষক খুঁজতে বলে। শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন কোনো শিক্ষক চরাঞ্চলে যেতে চায় না। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষক না থাকার কারণে।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। ক্ষেপে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যা পারেন করেন। এই নোংরামি ছাড়া আপনারাতো কিছু করতে পারেন না।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহওনেয়াজ পারভীন জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের জন্য টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সাময়িকের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুতই শিক্ষক দেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএম/ইউবি
