খুলনায় সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ : ওসিসহ ৫ পুলিশ আহত

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:৩৩
খুলনায় কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন হত্যা মামলার আসামি আজিজুল ইসলাম ওরফে আজিজুলকে (২৩) নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আসামি আজিজুল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। আহত পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও সন্ত্রাসী আজিজুল ইসলামকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
 
সোমবার ভোর রাতে নগরীর বাগমারা মেইন রোডস্থ বালুম মাঠ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.  শফিকুল ইসলাম, এসআই মো. কামাল উদ্দিন, এসআই মো. আব্দুল হান্নান, এএসআই মো. মামুন হোসেন ও এএসআই শুভেন্দু কুমার পাল। 
 
পুলিশ জানায়, গত রবিবার রাতে নগরীর বাগমারা এলাকা থেকে কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন হত্যা মামলার আসামি আজিজুল ইসলাম ওরফে আজিজুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে নিয়ে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে মহানগরীর বাগমারা মেইন রোডস্থ বালুর মাঠ এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় স্থানীয় শাহানারা বেগমের বাড়ির দক্ষিণ পাশে এবং মো. নাসির উদ্দিনের জমির উত্তর পাশে কলা গাছের ঝোপের মধ্যে থেকে একটি নাইন এম এম পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধার করে ফেরার পথে আজিজুলের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে আজিজুল বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। 
 
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন হত্যা মামলার আসামি আজিজুলকে গত রবিবার রাত ১১টার সময় গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে রাতে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে আজিজুলের সহযোগীরা পুলিশকে উদ্দেশ করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় তিনিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। তবে আজিজুলের সহযোগীরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি নাইন এম এম পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই মো. কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে অস্ত্র ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আজিজুল এবং তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করেছেন। 
 
গুলিবিদ্ধ আজিজুলের বিরুদ্ধে খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। তিনি নগরীর জাহিদুর রহমান সড়ক এলাকার হাবিবুল ইসলাম ওরফে হাবিবের ছেলে। 
 
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে নগরীর আমতলা মোড় এলাকায় শহীদ আবুল কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক চিত্তরঞ্জন বাইকে হত্যা করে তার বাড়ির মালামাল লুট করা হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই