রাঙ্গামাটিতে পরিবহনে চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৫১

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ি এলাকায় চাঁদার দাবিতে মালভর্তি দুটি ট্রাক আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সন্ত্রাসীরা।

 

সোমবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ১৮ মাইল-কাঠালতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পর্যটকবাহী কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনতাই করে নেয়া হয় অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে মালবাহী ট্রাকে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটি শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন গুলো। শহরের দোয়েল চত্ত্বরসহ বনরূপায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ জানান, সোমবার ভোর ৫টার দিকে দুটি ট্রাক মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি সড়ক হয়ে মহালছড়ি যাচ্ছিল। এ সময় রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ির মাঝামাঝি কাঙগেলছড়ি এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত মালবাহী একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করলে তা সম্পুর্ণ পুড়ে যায়। ট্রাকটিতে চাল, ডাল, আলু, কেরোসিন, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন ধরণের ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ছিল। তবে অপর ট্রাকে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করলেও স্থানীয় লোকজন ও মালবাহী ট্রাকের লোকজন আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে মালবাহী ট্রাকে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটি শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন গুলো। শহরের দোয়েল চত্ত্বরসহ বনরূপায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাঙ্গামাটি জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. সেলিম, রাঙ্গামাটি ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেকান্দর হোসেন, অটোরিকশাচালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রোমান ও ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে শত শত শ্রমিক এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতারা চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন সময় ড্রাইভার হত্যার বিচার দাবি করেন।

পরে মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। বৈঠকে জেলা প্রশাসক রাঙ্গামাটি শহরের চলা অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে শ্রমিক নেতারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে লাগাতার হরতাল অবরোধের ডাক দেয়।

 

গাড়ি চালকরা জানায়, মহালছড়ি বাজারের মালামাল পরিবহনের গাড়ি চালালে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। ড্রাইভাররা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সন্ত্রাসীরা চট্টমেট্রো ট- ১১০৭৪১ এবং চট্টমেট্রো ট- ১১২০৬৬ নম্বরের দুইটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে ট্রাকটি এবং তাতে বহন করা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে যায়।

 


ট্রাকে অবস্থানকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা সন্ত্রাসীদের কাছে ট্রাকে আগুন না লাগাতে অনুনয়-বিনয় করেছিল। কিন্তু তাতে সন্ত্রাসীদের মন গলেনি। উল্টো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের মারধোর করে সন্ত্রাসীরা। এতে মহালছড়ি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রকাশ আচর্য, কামাল হোসেন, মুন্সী মিয়াসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে আহত মুন্সী মিয়াকে মহালছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে বলেও জানা গেছে।

খবর পেয়ে মহালছড়ি সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে, একই সময় মহালছড়ি থানা থেকে পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পানির সঙ্কুলান না থাকায় কেউ আগুন নেভাতে পারেনি। তবে ঘটনার সাড়ে ৩ ঘণ্টার পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাঙ্গামাটি থেকে অগ্নি নির্বাপক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু ততক্ষণে সম্পূর্ণ ট্রাক ও মালামাল ভস্মিভূত হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, আগামীকাল মঙ্গলবার সাপ্তাাহিক মহালছড়ি বাজার থাকায় বাজার ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে পাইকারি ক্রয় করে চারটি ট্রাকে করে বিভিন্ন মালামাল রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক হয়ে মহালছড়ি বাজারে আসছিল। এ সময় চারটি পর্যটকবাহী বিভিন্ন ধরণের গাড়িও তাদের পেছনে অনুসরণ করে আসছিল। গাড়িগুলো নানিয়ারচর উপজেলার ১৮ মাইল কাঠালতলী এলাকায় পৌঁছালে ১৬ জন মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গাড়িগুলোকে থামিয়ে কাদের গাড়ি জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তারা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় পর্যটকদের গাড়িতে উঠে অস্ত্রের মুখে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

ইত্তেফাক/এএন/ইউবি