সরকারের সেবাধর্মী গুরুত্বপূর্ণ আরো ৫টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিরোধে নজরদারি বাড়াতে এবং দুর্নীতির অনুসন্ধানে ৫টি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার কমিশন এ কমিটি গঠন করে। সরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, দেশের সব স্থলবন্দর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পরিবেশ অধিদফতর। সোমবার বিকালে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) প্রণব কুমার ভাট্টাচার্য ইত্তেফাককে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি রুখতে দুদক কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া দুর্নীতি জিরো টলারেন্সে আনতে কমিশন সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। সোমবার দুপুরে কমিশনের নির্ধারিত বৈঠকে নতুন করে পাঁচটি ইউনিটের অনুমোদন দেওয়া হয়। একজন পরিচালককে প্রধান করে তিন সদস্যের পৃথক এই টিমগুলো তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, টিমগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি, সেবাসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খতিয়ে দেখবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির উৎস ও কারণ চিহ্নিত করা, দুর্নীতি বন্ধে কী কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে দুর্নীতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে এই টিম। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলো যদি বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ থাকে, তবে তা অনুসন্ধানের অনুমতি, সুপারিশসহ কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে এই টিমগুলো। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করবে। এমনকি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তা অনুসন্ধান করবে। দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্যের প্রমাণ পেলে সেটি তদন্ত করে মামলা করবে ওই টিম।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের মহাপরিচালকের (বিশেষ তদন্ত) সার্বিক তত্ত্বাবধানে টিমগুলো পরিচালিত হবে। প্রতিটি টিমের নেতৃত্ব দেবেন একজন পরিচালক। তাদের মধ্যে দুদকের পরিচালক এ কে এম জায়েদ হাসান খানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে দেশের সব স্থলবন্দর, দুদকের পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের নেতৃত্বে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদফতরে নজরদারি করা হবে। এছাড়া প্রতিটি টিমকে কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
টিমগুলোর কার্যপরিধিতে বলা হয়, আদেশের কপি পাওয়ার পর টিমগুলো ওইসব প্রতিষ্ঠানের আইন, বিধি, পরিচালন পদ্ধতি, সরকারি অর্থ অপচয়ের দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক, জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি, দুর্নীতির কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। এসব বিষয় উল্লেখ করে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে টিমগুলোকে সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ পেশ করতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, টিমগুলোকে দুর্নীতি, প্রতিবন্ধকতা সংশোধনের উপায় উদঘাটন করতে হবে। সারসংক্ষেপে প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মান উন্নয়ন ও জনগণের ভোগান্তি, দুর্গতির বিষয় উল্লেখ করতে হবে।
এ বিষয়ে দুদকের সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সোমবার কমিশনের বৈঠকে এ পাঁটি টিম গঠনের পাশাপাশি দুর্নীতি রোধে আরও নতুন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত অন্য আরো সরকারি অধিদফতরের এবং প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির তথ্য বের করতে কমিটি গঠন করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআই
