চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বহুল আলোচিত শফিকুল ইসলাম বাবু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মিজবাহ উদ্দীন। মিজবাহ উদ্দীন ওই মামলার বাদী ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন মামলার বাদীর ছেলে ও খুনের শিকার শফিকুল ইসলাম বাবুর বড় ভাই ছৈয়দুল ইসলাম।
ছৈয়দুল জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামি দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এলাকায় পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। প্রতিনিয়ত নানান অপরাধমূলক ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরমধ্যে বাদীর পরিবারকে মৃত্যুর হুমকি প্রদান করেছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। ছৈয়দুল বলেন, মহামান্য আদালত সঠিক বিচার করেছেন। কিন্তু এরকম জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী কিভাবে এখনো প্রকাশ্য ঘুরাফেরা করছে তা আমার বোধগম্য নয়। শুধু তাই নয়, ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিজবাহ উদ্দীন স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারী কফিল উদ্দীনের ভাই হওয়াতে এলাকায় দাপটের সঙ্গে নানান অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে ওই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতারপূর্বক তার সাজা কার্যকর করার আহবান জানাচ্ছি। নচেৎ তারা আবারো আমাদের ওপর বর্বরতম হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২ মে সন্ধ্যা ৭ টায় বৈলছড়ি হাইস্কুলের মাঠের পাশে রাস্তার ওপর নলকূপ থেকে সেচের পানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে দুলা মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাবুকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম বাবুকে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পরও বাঁচানো যায়নি তাকে। অপরদিকে এ ঘটনায় দুলা মিয়ার আরেক ছেলে ছৈয়দুল ইসলামকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাদের বাবা দুলা মিয়া বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে সে বছরের ১৩ নভেম্বর এ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে মোট ২৫ সাক্ষীর মধ্যে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন ১৬ জন। ২০০৪ সালের ২৫ জানুয়ারী ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ ধারায় এ মামলার চার্জশীট গঠন করে আদালত এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৮ আগষ্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুদ্দৌলা কুতুবী এই মামলার রায় ঘোষণ করেন। রায়ে মামলার প্রধান আসামি মেছবাহ উদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। মেছবাহ উদ্দীন স্থানীয় জহির উদ্দীনের ছেলে এবং বৈলছড়ি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নেতা কফিল উদ্দীনের ভাই।
অপরদিকে এ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, স্থানীয় কবির আহমদের ছেলে মফিজ উদ্দীন, আছহাব উদ্দীনের ছেলে মোজাহের আহমদ, আমিন শরীফের ছেলে নুর হোসেন, এজাহার মিয়ার ছেলে আহমদ হোসেন ও গুরা মিয়ার ছেলে আবু আহমদ।
মামলায় অপরাপর খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, স্থানীয় শামসুল ইসলামের ছেলে নুরু, এমতু মিয়ার ছেলে মোঃ ইউসুফ ও লেদু মিয়া, মৃত জিনু মিয়ার ছেলে আবদুল মোমেন, দুদু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হারুন এবং কবির আহমদের ছেলে রফিক আহমদ।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মফিজ উদ্দীন, মোজাহের আহমদ ও নুর হোসেন বর্তমানে কারাগারে। অপরাপর আসামিরা পালিয়ে যাওয়াতে তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিজবাহ বর্তমানে এলাকায় প্রবেশ করেছে বলে জানা যায়। এদিকে এ ঘটনায় বর্তমানে ওই এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিজবাহকে খুঁজছি। পেলে গ্রেফতার করবো। কিন্তু তাকে খুঁজে পাচ্ছি না বলে গ্রেফতার করতে পারছি না।
ইত্তেফাক/এএন
