হাজীগঞ্জে আখড়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৫২
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ন আখড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
 
আহতদের মধ্যে চার জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আখড়ার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন মামলা মোকদ্দমা করা হয়নি।
 
আহতরা হলেন, গৌরপদ সাহা পক্ষের শ্যামল কৃষ্ণ ধর, যুগল কৃষ্ণ সরকার, যুগল সাহা, দীপক কুমার সাহা ও সঞ্জয় দাস। দিলীপ কুমার পক্ষের জয়ন্ত আইচ, সঞ্জয় সাহা, বিশ্বজিৎ সাহা, পিন্টু চক্রবর্তী ও নয়ন চক্রবর্তী। শ্যামল কৃষ্ণ ধর, যুগল কৃষ্ণ সরকার, যুগল সাহা ও দীপক কুমার সাহাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
 
জানা গেছে, হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউড় আখড়ার কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এর মধ্যে গত ২১ ডিসেম্বর দিলীপ কুমার সাহাকে সভাপতি ও সত্য ব্রত ভদ্র ওরফে মিঠুন ভদ্রকে সাধারণ সম্পাদক করে এক পক্ষ ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। এর ১৮ দিনের মাথায় গৌরপদ সাহাকে সভাপতি ও গৌবিন্দ চন্দ্র সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে অপর পক্ষ পাল্টা কমিটি গঠন করেন। এ কারণে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে যায়।
 
বেআইনিভাবে কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে গৌরপদ সাহার কমিটির যুগল কৃষ্ণ সরকার ১৫ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধরকে আখড়া পরিচালনার জন্য রিসিভার নিয়োগ করেন।
 
সোমবার সন্ধ্যায় আখড়া প্রাঙ্গণে দিলীপ কুমার সাহার লোকজন হরিনামযজ্ঞ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সভা আহ্বান করেন। এ সময় নয়ন মনি সূত্রধর গৌরপদ সাহার লোকজন নিয়ে আখড়ার ভিতরে প্রবেশ করেন।
 
এ প্রসঙ্গে সত্য ব্রত ভদ্র বলেন, ‘মূলত নয়ম মনি সূত্রধরের কারণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আদালত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছেন। তারপরও তিনি এক পক্ষের হয়ে আখড়ার কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন।’
 
গৌরপদ সাহা বলেন, ‘দিলীপ ও সত্য ব্রত ভদ্র জোর পূর্বক আখড়া দখল করার চেষ্টা করছেন। তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে আখড়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। রিসিভারের সামনেই সোমবার সন্ধ্যায় তাদের লোকজন আমাদের লোকজনকে মেরে আহত করেছে।’
 
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষ বেআইনিভাবে কমিটি করেছে। তারা এখন আখড়া দখলের যাওয়ার চেষ্টা করছেন।মঙ্গলবার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুই পক্ষকে আখড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাতে আখড়ার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ