১২ দফা দাবি মেনে নেয়ায় অনির্দিষ্টকালের পণ্য পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার সচিবালয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল গফফার বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়। এতে দাবিগুলো মেনে নেয়া হলে বিকাল পাঁচটায় খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। যে কারণে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আবার পণ্য পরিবহন শুরু হয়।
এর আগে পরিবহনে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই না করতে প্রেস নোট জারি, অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন, ওয়েব্রিজে জরিমানা বাতিল, ১২ হাজার টাকা স্কেল জরিমানা প্রত্যাহার, ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধ, কাগজপত্র পরীক্ষার নামে হয়রানি বন্ধ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ, ব্রিজের টোল কমানো, অপ্রয়োজনীয় স্পিড ব্রেকার অপসারণ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, জ্বালানি তেলের দাম কমানো, ভারতের পেট্রোপোল বন্দরে চালকদের নির্যাতন বন্ধ এবং গত বছর সীতাকুন্ডু থানায় চার শ জন ট্রাক চালকের নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংক-লরিও ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত হয়। এতে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। আর এতে কাঁচা বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সোমবার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠনটি।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
