টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জামুর্কি নবাব স্যার আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক (শিক্ষক) নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এএসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির, প্রধান শিক্ষক, প্রার্থী ও নিয়োগ কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নিয়োগ বাতিল ও দুর্নীতিবাজসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আজ অভিভাবক এবং এলাকাবাসী বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশংকায় বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী। রাতে এ প্রতিবেদন পাঠানো পর্যন্ত তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রেখেছে।
মামলার বিবরণ ও মামলা বাদী সুত্রে জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি জামুর্কি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক (শিক্ষক) পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মো. রুবেল খান, পাপন মিয়া, সাবেরা সুলতানা, আছিয়া আক্তার ও শামীম ইসলাম এই পাঁচজন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগ কমিটি, বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এএসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির যোগসাজস করে নিয়োগ পরীক্ষায় যোগ্যদের বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী রুবেল মিয়াকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন।
মামলার বাদী সাবেরা সুলতানা অভিযোগ করেন, পরীক্ষার খাতায় তাকে ডিজির প্রতিনিধি ও নিয়োগ কমিটি পরিকল্পিতভাবে একটি প্রশ্নের নম্বরও দেওয়া হয়নি। তিনি এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা হলেন, সভাপতি এএসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির, প্রধান শিক্ষক মো. সাদেক আলী মিয়া, নিয়োগ প্রার্থী রুবেল খান, মো. শামীম ইসলাম, পাপন মিয়া ও আছিয়া আক্তার।
টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী জজ আগামী ২৭ ফেব্রয়ারী আসামীদের কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাদেক আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়োগ পরীক্ষা বোর্ডে ছিলাম না। আমাকে পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ বোর্ড থেকে বাদ রাখা হয়েছিল। নিয়োগ দিয়েছে সভাপতি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ডিজির প্রতিনিধি। অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে নিয়োগ বোর্ড করেছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু ও ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে পড়াশোনার কোন ক্ষতি না হয় এ জন্য তিনি এই নিয়োগ বাতিলের দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এএসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির বলেন, নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে যে প্রার্থী প্রথম হয়েছে তাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার পুলিশ অফিসার(এসআই)মো. আলমগীর হোসেন বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
