সিলেটের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতীত অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত সকল পাথর ভাঙ্গার (স্টোন ক্র্যাশার) মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ এবং উচ্ছেদেরে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।একইসঙ্গে স্টোন ক্রাশিং মেশিন স্থাপন নীতিমালা-২০০৬ অনুসারে অনুমোদিত পাথর ভাঙার মেশিনগুলোকে তিন মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট জোনে স্থানান্তরিত করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেন। এছাড়া স্টোন ক্রাশিং মেশিন স্থাপন নীতিমালা-২০০৬ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অননুমোদিত পাথর ভাঙ্গার মেশিন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
ওই রিটে বলা হয়, সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্যানুয়ায়ী সিলেট জেলার অন্তর্গত সদর, কোম্পানিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৬০৬টি স্টোন ক্রাশার মেশিন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। যার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে ২১৩টির এবং ছাড়পত্রবিহীন মেশিনের সংখ্যা ৩৯৩টি। ক্রাশার মেশিনের শব্দ ও ধুলার কারণে এলাকাবাসী চর্মরোগ, সর্দি, মাথাধরা, কানে কম শোনাসহ নানা মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিল। বেশ কয়েকটি স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়ে গেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে অবৈধ, অনিয়ন্ত্রিত এবং অননুমোদিতভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনকে কেন আইন বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
এছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতীত অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত সকল স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করে আদালত। ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এবং ৫টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে আদেশ দেয় আদালত। মঙ্গলবার ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে বেলা’র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাড্ভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত রায় দেয়।
ইত্তেফাক/এমআই
