ভেজাল পণ্যে সয়লাব উখিয়ার দোকানপাট

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:২৭

লক্ষ্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

রফিক উদ্দিন, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা     

বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে উখিয়ার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ভেজাল পণ্যের মার্কেট। এমনকি স্থানীয় নামকরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে মানহীন এসব পণ্য। উন্নতমানের পণ্যের মোড়কে মোড়ানো এসব নকল সামগ্রী কিনে প্রতারিত হচ্ছেন রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মানুষ। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে ভেজাল সামগ্রী জব্দসহ বিক্রেতাকে জরিমানা করলেও থামছে না অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ বাণিজ্য।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক সময় উখিয়া সদর এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দোকান ও কসমেটিক সামগ্রীর দোকান ছিল। রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে মার্কেট ও দোকানপাটের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব দোকানে আসল মোড়কের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল কসমেটিকস ও ভেজাল খাদ্য সামগ্রী ও শিশুখাদ্য। উখিয়ার ‘বিজয় মার্কেট’ থেকে একটি ফেয়ার এন্ড লাভলী কিনেছিলেন সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। গায়ে দাম ১২০ টাকা লেখা থাকলেও তার কাছ থেকে রাখা হয় ৮০ টাকা। ক্রিমটি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পরই তার মেয়ে তাকে জানায়, এটি নকল ফেয়ার এন্ড লাভলীর টিউব। মেয়ের কথা শুনে পণ্যটি ফেরত দিতে গেলে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বাধে তর্কাতর্কি।

বিজয় মার্কেটে কসমেটিক্স দোকানদার শাহ আলম জানান, স্থানীয় অশিক্ষিত ক্রেতা ও রোহিঙ্গারা তাদের দোকান থেকে বিভিন্ন মালামাল কিনে থাকেন। ভালমন্দ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। দাম কম থাকলেই তারা কিনেন, মান নিয়ে প্রশ্ন করেন না। উখিয়া বাজারে আরো বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে মিলল ভেজাল কসমেটিকসের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্যসামগ্রী। এক দোকান মালিক সাংবাদিক পরিচয় জেনে বলেন, এসব নিম্নমানের পণ্য রোহিঙ্গাদের নিকট বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। তিনি এসব পত্রিকায় না লেখার জন্যও অনুরোধ করেন।

উপজেলায় দায়িত্বরত সিনেটারি ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ভেজাল খাদ্যপণ্য প্রতিরোধ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা আসার পর থেকে নকল, ভেজাল ও মানহীন পণ্যসামগ্রী বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু একার পক্ষে এত ভেজাল ও নকল পণ্য প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে ও বিভিন্ন সরকারি প্রোগ্রাম থাকায় বাজার মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে ভেজাল খাদ্য বিক্রি করছে। অবিলম্বে উখিয়ার হাট বাজারগুলো পরিদর্শন করার আশ্বাস দেন তিনি।