প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেয়া বিশেষ উদ্যোগ সফলে ‘স্পট ভিজিট’

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:২৭
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে খুলনা থেকে শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত ১০টি বিশেষ উদ্যোগ সফল করার লক্ষ্যে ‘স্পট ভিজিট।’
 
এ প্রকল্পের আওতায় বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য অফিসার একেএম শামীম চৌধুরী ডুমুরিয়া উপজেলার ভাণ্ডারপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ ভিজিট করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে খুলনার গণমাধ্যম কর্মীদের জানাতে তাদের নিয়ে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস (পিআইডি) এ স্পট ভিজিটের আয়োজন করে।
 
প্রধানমন্ত্রীর হাতে নেয়া ১০টি বিশেষ উদ্যোগ হচ্ছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা। এরই মধ্যে সরকারের এ উদ্যোগ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন-মানের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা অর্জন করতে শুরু করেছে।
 
এদিকে, দুপুরে স্পট ভিজিটের আগে স্থানীয় সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান তথ্য অফিসার একেএম শামীম চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনেক পরিকল্পনার মধ্যে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত হবে। দেশে বিরাজ করবে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সমৃদ্ধি।
 
প্রধান তথ্য অফিসার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের সুফল বর্ণনায় বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। যেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী সুফল এনেছে, যেটি স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বের দরবারে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ২০১৮ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্র চর্চার পাশাপাশি সত্য ও ন্যায়কে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ এখন এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সঙ্গে এসডিজিতে পদার্পণ করেছে।
 
তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ জরুরি। সমাজকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্যোগের বাস্তবায়ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনগণের সুফলের নতুনমাত্রা সৃষ্টি হবে। অন্যান্য সংবাদ প্রচারের সঙ্গে দেশের উন্নয়নের কথা জনগণকে জানাতে প্রচারমাধ্যমগুলোতে স্পেস বাড়াতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানান।
 
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রসাশক নাজমুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার মো. ইসতাক হোসেন, খুলনা সিভিল সার্জন এসএমএ আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ ও খুলনা পল্লী বিদ্যুতের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার শহিদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার জিনাত আরা আহমেদ।
 
এ সময় খুলনা জেলা খুলনা বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক বশির উদ্দিন, খুলনা তথ্য অফিসের উপপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, তথ্য অধিদফতরের চিফ ফিচার রাইটার মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার রায়, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বিটিভি খুলনা প্রতিনিধি মকবুল হোসেন মিন্টু, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকসহ খুলনায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
 
পরে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার আশ্রয়নকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ/ইউবি