চলচ্চিত্রে মন্দা হাওয়া বইছেই

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:২৯

 

বিনোদন রিপোর্ট

 

আমাদের সবার আগে প্রয়োজন পেশাদার প্রযোজক। কাকরাইলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের এখন খুব খারাপ অবস্থা। এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। হল মালিকদের তাদের হলগুলো আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। কারণ মানুষ এখন একটি ভালো পরিবেশে সিনেমা দেখতে চায়। সেই পরিবেশটা তাদের দিতে হবে।

 

— মিশা সওদাগর

আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত এমন সময়ে। আমি চেষ্টা করছি প্রযোজনা করতে। এই মুহূর্তে দুটি সিনেমা প্রযোজনা করছি। হল মালিকদের উচিত সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে এর সমাধান করা। কারণ আমরা যারা এই সিনেমা থেকে সবকিছু পেয়েছি তাদের দায়িত্ব রয়েছেন সিনেমার খারাপ সময়ে পাশে থাকা।

 

—শাকিব খান

চলতি মাসের শেষ শুক্রবার ছিল গতকাল। অথচ দেশের হলগুলোতে পুরোনো সিনেমার ব্যানার। এ বছরের ৩ মাসে সিনেমার অবস্থাটা এমনই সুনসান। কিছু আলোচিত সিনেমা বা তথাকথিত হিট ছবি থাকলেও সাড়া ফেলে দেওয়ার মতো কোনো সুপারহিট সিনেমা এ বছর এখন পর্যন্ত নেই। তবে সামনের বৈশাখ ও ঈদ এই অবস্থার কতটুকু পরিবর্তন আনতে পারবে তা নিয়েও শঙ্কা। সব মিলিয়ে বলা যায়, এ বছরটাও যে সিনেমা বাজারের জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে না তা ধারণা করা যায়। যার মূল কারণ সিনেমার বাজারের উল্লাস। এক সময় শুক্রবার মানেই একাধিক সিনেমার মুক্তির যে উল্লাস তৈরি হতো সেটি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। যার ফলাফল হিসেবে দেশের হল মালিকরাও নিজেদেরে সিনেমা ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্য বাণিজ্য শুরু করেছেন। মাঝে পাইরেসির মধ্য দিয়ে এদেশের সিনেমার বাজারটা আরো ধসে গেছে। তবে এসব অতিক্রম করে সপ্তাহে একটি বা দুটি সিনেমা মুক্তি পায়। আর এখন হিসেবটা যেন পুরোটাই উল্টে গেছে। মাসের এক সপ্তাহে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেলেও অন্য তিন সপ্তাহ হলের সামনে ছিল পুরোনো সিনেমার ব্যানার।

সিনেমা বাজারের খারাপ সময় দিয়েই শুরু হয় চলতি বছর। কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেলেও একটি সিনেমাও এক সপ্তাহের বেশি ছিল না হলে। তবে ফেব্রুয়ারি ভালো একটি মাস হিসেবে বলা যায়। কারণ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতেই আলোচিত কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পায়। এরমধ্যে রয়েছে ফাগুনা হাওয়া ও যদি একদিন। যদিও এই সিনেমা দুটি ব্যবসায়িকভাবে সুপারহিট নয়। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত আলোচনায় ছিল এই দুটি সিনেমা। এরমধ্যে ‘ফাগুন হাওয়া’ ছবিটি প্রায় সব দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম আহমেদ, আবুল হায়াত, ফজলুর রহমান বাবু, রওনক হাসান, সাজু খাদেম, শহীদুল আলম সাচ্চু, যশপাল শর্মা প্রমুখ। দেশের ৫২টি হলে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি এখন পর্যন্ত হিট ছবি বলা হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে বক্স অফিস হিসেব না থাকায় একটি সিনেমার ব্যবসায়িক হিসেবটা দিয়ে থাকে সিনেমার প্রযোজক বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ‘যদি একদিন’ সিনেমাটি আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী ও তাহসানের প্রথম সিনেমা। এছাড়াও সিনেমাটি মুক্তির কিছুদিন আগে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ ও তাহসান রিকশায় ঘুরে ঘুরে প্রচারণা করেন। তবে সিনেমাটি প্রথম দুই সপ্তাহ আলোচনায় থাকলেও এরপর সিনেমাটি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো হিসেব পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়িক দিক থেকেও সিনেমাটির কোনো হিসেব নেই। তবে হল রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি সিনেমাটি।

সিনেমার এই ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণে সম্প্রতি হল মালিক সমিতি আগামী ১২ এপ্রিল থেকে হল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। দেশের সিনেমা অঙ্গনে এ বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। হল মালিকদের এই সিদ্ধান্তে সিনেমার কলাকুশলীরাও মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

শাকিব খান বলেন, ‘হল বাঁচিয়ে রাখতে বড় বাজেটের সিনেমা প্রয়োজন। আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত এমন সময়ে। আমি চেষ্টা করছি প্রযোজনা করতে। এই মুহূর্তে দুটি সিনেমা প্রযোজনা করছি। হল মালিকদের উচিত সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে এর সমাধান করা। কারণ আমরা যারা এই সিনেমা থেকে সবকিছু পেয়েছি তাদের দায়িত্ব রয়েছেন সিনেমার খারাপ সময়ে পাশে থাকা।’ অন্যদিকে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমাদের সবার আগে প্রয়োজন পেশাদার প্রযোজক। কাকরাইলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের এখন খুব খারাপ অবস্থা। এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। হল মালিকদের হলগুলো আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। কারণ মানুষ এখন একটি ভালো পরিবেশে সিনেমা দেখতে চায়। সেই পরিবেশটা তাদের দিতে হবে। তবে প্রতিটি সমস্যার সমাধান রয়েছে। এখন প্রযোজক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হল মালিকদের সাথে বসা। বিষয়টির সমাধান করা। কারণ আমাদের সিনেমা আমাদেরই বাঁচাতে হবে।’