চট্টগ্রামে বিচারক স্বল্পতা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:৩২

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার প্রায় বিশটি আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারক না থাকায় বিচার প্রার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, দ্রুত বিচারের জন্য গঠিত বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালসহ অনেক আদালতেই নেই বিচারক। ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে কোনোরকমে চলছে বিচারের কাজ। বিচারক সংকটের কারণে একদিকে যেমন পুরনো মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না তেমনই প্রতিদিন নতুন মামলা দায়ের হওয়ায় বাড়ছে মামলার জট। এ কারণে প্রায় ৩০ হাজার মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী জনগোষ্ঠীর হয়রানি ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত ও দুর্গম এলাকা থেকে আগত বিচারপ্রার্থীদের বিচারক না থাকায় শুধু নতুন তারিখ নিয়ে বিদায় নিতে হয়, যা তাদের জন্য খুবই কষ্টকর। চট্টগ্রামের আদালতগুলোতে মামলাজট দূর করতে বিচারকের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি আরো কিছুসংখ্যক নতুন আদালত সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম শাখার তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় বর্তমানে ৯০টি আদালতের মধ্যে ২০টিতেই বিচারক নেই। বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্নীতি ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে আদালতটিতে বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৭শ’র অধিক মামলা। তা ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা প্রায় আড়াইশ মামলার তদারকি করছে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত। গত ৭ জানুয়ারি এই আদালতের বিচারক রুহুল আমিন বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আদালত যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বদলি করা হয়। বর্তমানে এই ট্রাইবুনালেও বিচারক না থাকায় শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ চাঞ্চল্যকর মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরীকে বদলি করার পর থেকে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক সংকট শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিচারক শূন্য থাকার পর গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা বেগমকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। কিন্তু তিনি কাজে যোগ দেওয়ার আগেই অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। পরবর্তীতে আবার গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে উক্ত ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মাত্র দুই মাস কাজ করার পর গত বছরের নভেম্বরে অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিচারকশূন্য আছে।

বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ছাড়াও চট্টগ্রামের আরো ১৮টি আদালতে রয়েছে বিচারক সংকট। তার মধ্যে জেলা জজশিপের অধীনে দেউলিয়া আদালত, ৩য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, সন্দ্বীপের সিনিয়র সহকারী জজ, পটিয়া চৌকির আওতাধীন চন্দনাইশ আদালতের সহকারী জজ, পটিয়া চৌকির অতিরিক্ত আদালতের সহকারী জজ, সাতকানিয়া চৌকির অতিরিক্ত আদালতের সহকারী জজ, সাতকানিয়া চৌকির লোহাগাড়া আদালতের সহকারী জজ, বাঁশখালী চৌকির সহকারী জজ আদালতগুলোতে রয়েছে বিচারক সংকট। তা ছাড়া ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে ২য় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে বিচারক নেই। এই ১৯টি আদালতে রয়েছে ২৯ হাজার মামলা।

প্রসঙ্গত, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দীন চৌধুরী গত বছরের জুলাইতে দ্রুততম সময়ে বিচারক নিয়োগ করে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী, আইন সচিব ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।