মৃতের সংখ্যা ২৫-এ উন্নীত

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:৪২

বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ফায়ার সার্ভিস থেকে জানানো হয়েছিল অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ১৯ জন। তবে ওই দিন রাত ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস একবার জানিয়েছিল মৃতের সংখ্যা ২৫ জন। পরে অবশ্য জানানো হয়, মৃতের সংখ্যা ১৯ জন। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে বিভিন্ন হাসপাতালে রাখা ২৪টি লাশ বিনা ময়নাতদন্তে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে একটি লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে। ২৫টি লাশের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১০ জনের, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ছয় জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে চার জন, ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তিন জন, অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে একজন এবং বনানী ক্লিনিক থেকে একজনের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। তিনি আরও বলেন, আগুন থেকে বাঁচতে ওই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যাওয়া শ্রীলঙ্কান নাগরিক নিরস ভিগনা রাজার মরদেহ তার দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে জাফর আহম্মদের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। তিনি সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন গত বছর। এরপর তিনি এফ আর টাওয়ারে ৯ম তলায় অবস্থিত আসিফ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত ফজলে রাব্বির বাবার নাম জহিরুল হক। তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ। এফ আর টাওয়ারের ১১ তলায় ইউরো সার্ভিস নামে একটি কোম্পানিতে তিনি চাকরি করতেন।

মৃত তানজির আবিরের (২৪) মরদেহ শনাক্ত করেন তার দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, তানজিরের বাবা আবু বকর সিদ্দিক, তাদের বাড়ি লালমনিরহাট। কল্যাণপুর মধ্য পাইকপাড়ায় থাকতেন তানজির। এফ আর টাওয়ারে মিকা সিকিউরিটিজ নামে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি।

শেখ জারিন তাসনিম বৃষ্টির (২৭) স্বামী কাজী নূর। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর শহরের বেসপাড়ায়। থাকতেন ৮৪/১, বটতলা, খিলক্ষেতে। চাচাত ভাই জিসান তার মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, এফ আর টাওয়ারের ১২ তলায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন বৃষ্টি।

বন্ধু গিয়াস উদ্দিন শনাক্ত করেন আমির হোসেন রাব্বির (২৯) মরদেহ। গিয়াস জানান, আমিরের বাবা আইয়ুব আলী, তাদের বাড়ি পাবনার আতাইকুলার গাঙ্গহাটী চেরপাড়া গ্রামে। খিলক্ষেত নিকুঞ্জ-২ এলাকায় থাকতেন তিনি। তিনি ১১ তলায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

মির্জা আতিকুর রহমানের (৪৪) চাচাত ভাই আবুল খায়ের তার মরদেহ শনাক্ত করেন। খায়ের জানান, আতিকুরের বাড়ি শরীয়তপুরের পালং থানার শৈলপাড়া গ্রামে। ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী এলাকায় থাকতেন। তিনি ১৩ তলায় স্ক্যানওয়েল লজিস্টিকসে চাকরি করতেন।

ইফতিয়ার হোসেন মিঠুর (৩৭) মরদেহ শনাক্ত করেন ভাই ইফতে খাইরুল আলম। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। এফ আর টাওয়ারের ১১ তলায় একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন তিনি। মঞ্জুর হাসান (৪৯) ছিলেন কাশেম গ্রুপের কাশেম ড্রাইসেলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। ২১ তলায় তার অফিস ছিল। তার লাশ শনাক্ত করেন স্বজন জগলুল আলম। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মঞ্জুর হাসানকে ২১ তলার অফিস থেকে উদ্ধার করে। ঢাকার ইব্রাহিমপুরের ২৬২/২, ছাপরা মসজিদ সংলগ্ন একটি বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন তিনি। পায়ে সমস্যা থাকায় স্ক্র্যাচ নিয়ে চলাফেরা করতেন মঞ্জুর। গতকাল বাদ জুমা মিরপুর সাড়ে ১০ নম্বর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে রুমকি আক্তারের মরদেহ গ্রহণ করেন স্বামীর খালাত ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে রুমকির স্বামী মাকসুদুর রহমানও নিহত হয়েছেন। তারা গেন্ডারিয়ার আলমগঞ্জে থাকত।

আব্দুল্লাহ আল ফারুকের (৩০) মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাই। তিনি ডেমরার সারুলিয়ায় থাকতেন। সৈয়দা আমিনা ইয়াসমিনের (৩০) বাবার নাম সৈয়দ মহিউদ্দিন আহম্মেদ। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রামপাশা গ্রামে বাড়ি। ঢাকার ২০৬, কাফরুলের বাসায় ভাড়া থাকতেন। বরিশালের মনির হোসেন সর্দার (৫২) ঢাকায় পূর্ব মনিপুরের ৬৮৫/২ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ফ্লোরিডা খানম পলির (৪৫) স্বামীর নাম ইউসুফ ওসমান। রূপনগরের ৪ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন। মৃত মিজানুর রহমানের বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলার কোদালা গ্রামে। চাকরি করতেন ১০ তলার হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসে। শ্রীলঙ্কান নাগরিক নিরস ভিগনা রাজা (৩৫) ঢাকায় থাকতেন বনানীর এ ব্লকের ১৮ নম্বর রোডের ৭৬ নম্বর বাড়িতে। এ ছাড়া অন্য মৃতরা হলেন- মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬), আতাউর রহমান (৬২), মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাজু (৪০), জেবুন্নেসা (৩০), মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মিঠু (২৫), নাহিদুল ইসলাম তুষার (৩৫), তানজিলা মৌলি (২৫) ও মোহাম্মদ পারভেজ সাজ্জাদ (৪৬), ফজলে রাব্বি (৩০), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪০)।