প্রথম স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহপত্র দেওয়ার সময় বাড়ছে

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৬

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনালের পর এবার স্থলভিত্তিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে চাচ্ছে সরকার। তবে এজন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বিত যোগাযোগ এখনও গুছিয়ে আনা যায়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের প্রথম স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহপত্র জমাদানের সময়সীমা তিন মাস বাড়ানো হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে পেট্রোবাংলার একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সচল রয়েছে। সামিট গ্রুপের আরেকটি টার্মিনাল এ বছরই চালু হবে। এর বাইরে দেশে আর কোনো ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভাসমানের মতই স্থলভিত্তিক টার্মিনালও সরকার নিজে আগে নির্মাণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে চায়। এ জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে আগ্রহপত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে। চলতি মার্চেই সে সময়সীমা শেষ হচ্ছে। কিন্তু আশানুরুপ সারা মেলেনি। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না করায় আন্তর্জাতিক বা বহুজাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে আগ্রহপত্র জমাদানের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিন মাস পর্যন্ত এটি বাড়ানো হবে।

সরকারের এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ে নিয়োজিত রয়েছে পেট্রোবাংলার আওতাধীন কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল)। গত ৩ জানুয়ারি তারা স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের সম্ভাব্য নির্মাণকারীদের কাছ থেকে আগ্রহপত্র (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহ্বান করে। কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে এ টার্মিনাল নির্মিত হবে। চলতি মার্চের ২০ তারিখ পর্যন্ত এ আগ্রহপত্র জমাদানের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি সম্পর্কে বোঝাপড়ার অভাবে সম্ভাব্য নির্মাতারা আগ্রহপত্র জমা না দিয়ে পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল’র সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। সব মিলিয়ে তিন মাস পর্যন্ত তারা সময়সীমা বাড়াতে আরপিজিসিএলকে অনুরোধ করেছেন। আরপিজিসিএল বিষয়টি পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগকে জানিয়েছে। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নির্মাতাদের চাহিদা অনুযায়ী আগ্রহপত্র জমাদানের সময়সীমা তিন মাস বাড়ানো হবে।

আগ্রহপত্র অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির নকশা, প্রকৌশল, যন্ত্রপাতি ক্রয়, নির্মাণ এবং টার্মিনাল চালু করার দায়িত্ব পালন করবে। স্থলভিত্তিক টার্মিনালটিতে বছরে ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি, মজুদ ও রূপান্তরিত করা যাবে। এর বার্ষিক মজুদ ও রূপান্তর ক্ষমতা ১৫ মিলিয়ন টনেও বাড়ানো হতে পারে। নির্বাচিত কোম্পানি এটি নির্মাণের পাশাপাশি ২০ বছর পরিচালনাও করবে। এ ২০ বছর টার্মিনালটির মালিকানাও থাকবে তাদের। পেট্রোবাংলা তাদের কাছ থেকে গ্যাস কিনে পাইপলাইনে সরবরাহ করবে। এরপর টার্মিনালের মালিকানা সরকার কিংবা সরকারের মনোনীত কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরপিজিসিএল’র এক কর্মকর্তা জানান, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি কোম্পানি ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ প্রকল্পের অর্থায়ন বা অর্থের জোগানও মনোনীত কোম্পানিকে করতে হবে। তাই নানা খুঁটিনাটি বিষয় বোঝার জন্য সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।