হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, ১২:৩৯
 
সময়ের আবর্তনে এবং কালের পরিবর্তনে পাবনার সুজানগর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। এখন আর পৌষ পার্বণ, নবান্ন উৎসব কিংবা বিশেষ কোন দিনে ঢেঁকিতে পা দিয়ে ধান ভাঙার শব্দ শোনা যায় না। এমনকি শোনা যায় না নববধূদের কণ্ঠে সেই প্রিয় সঙ্গীত 'ও ধান বানিরে ঢেঁকিতে পা দিয়া, ঢেঁকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া, ও ধান বানিরে ঢেঁকিতে পা দিয়া'।
 
সত্যিই গ্রাম বাংলার কৃষাণীদের সেই চিরচেনা ঢেঁকি এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। অথচ এক সময় গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি কৃষক পরিবারেই ঢেঁকি ছিল। পরিবারের কৃষাণীরা সে সময় দৈনন্দিন ধান, গম ও জব ভাঙার কাজ ঢেঁকিতেই করতেন। পাশাপাশি চিড়া তৈরির মত কঠিন কাজও ওই ঢেঁকিতেই করা হতো। বিশেষ করে সবে বরাত, ঈদ, পূজা, নবান্ন উৎসব এবং পৌষ পার্বণসহ বিশেষ বিশেষ দিনে পিঠা-পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতেই ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করা হতো।
 
সে সময় গ্রামের বধূদের ধান ভাঙানোর গান আর ঢেঁকির ছন্দময় শব্দে সত্যই চারদিকে হৈ-চৈ পড়ে যেত। তাছাড়া ওই সময় এলাকার বড় বড় কৃষকরা আশপাশের দরিদ্র নারীদের টাকা বা ধান দিয়ে ঢেঁকিতে চাল ও আটা ভাঙিয়ে নিতো। অনেক দরিদ্র পরিবার আবার ঢেঁকিতে চাল ভাঙিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সে সময় ঢেঁকিতে ভাঙা পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু চালের বেশ কদর ছিল। কিন্তু আধুনিকতা আর বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন ধান-গম ভাঙা যন্ত্র আবিষ্কারের কারণে ঢেঁকি আজ বিলুপ্ত প্রায়। তাছাড়া সরকারিভাবেও ঢেঁকি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে গ্রাম-গঞ্জের দু’একটি বাড়িতে এখনও ঢেঁকি দেখা গেলেও অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবেনা বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস