এথেন্সে বাংলাদেশ-গ্রিস শিশু-কিশোর মেলা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:৫০
গ্রিসে প্রথমবারের মত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং গ্রিক শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে  বাংলাদেশ-গ্রিস শিশু কিশোর মেলা। 
 
এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এই মেলায় বিপুল সংখ্যক গ্রিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শিশুরা উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং উৎসব মুখর পরিবেশে অংশগ্রহণ করে। এই উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণ বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরার দূতাবাসের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। 
 
মেলা উদ্বোধন করে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন এই আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত শিশু কিশোর এবং তাদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 
IMG0
তিনি বলেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের গ্রিস-বাংলাদেশ মৈত্রীর সেতুবন্ধন। দুই দেশের শিশু কিশোরদের নিয়ে এই ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণ পর্যায়ে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। 
 
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশু কিশোরদের অত্যন্ত স্নেহের চোখে দেখতেন। সেজন্য প্রতিবছর তার জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়। তিনি দুই দেশের শিশু কিশোরদের সামনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে জনগণ পর্যায়ে সম্পর্ক জোরদার করতে তিনি সকলকে আহ্বান জানান। 
 
এই মেলায় দুই দেশের শিশুরা বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ ও গ্রিসকে তুলে ধরে। এথেন্সের শিল্পকলা বিদ্যালয় ‘দ্যা আর্ট ওয়ার্কশপ’ এই চিত্রাঙ্কনে সহযোগিতা করে। তিন ঘণ্টাব্যাপী শিশু কিশোরদের আঁকা বর্ণিল চিত্রাঙ্কনে দূতাবাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে। এতে গ্রিক শিশুরা বাংলাদেশের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে চিত্রাঙ্কন করে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শিশুরা তাদের চিত্রে গ্রিসকে ফুটিয়ে তোলে। দুই দেশকে তুলে ধরে রঙ্গ বেরঙ্গের মুখোশ তৈরি করে শিশুরা। শিশু-কিশোরদের এই চিত্রকলা দূতাবাসের পাঠাগারে সংরক্ষণ করা হবে।
IMG1
এথেন্সের ‘দ্যা আর্ট ওয়ার্কশপ’ এর পরিচালক মিস ডোরা স্কুটেরি এবং শিক্ষিকা মিস মেরু স্কুটেরি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের শিশু কিশোররা পরস্পরের কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছে এবং দুই দেশকে জানতে পেরেছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দুইজন গ্রিক শিশু এবং দুইজন প্রবাসী বাংলাদেশি শিশুও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখে। উপস্থিত দুই দেশের অভিভাকরা এই আয়োজনের ভূয়াসী প্রশংসা করেন।
 
চিত্রাঙ্কন শেষে অংশগ্রহণকারী শিশু কিশোরদের হাতে বিভিন্ন পুরস্কার, শুভেচ্ছা উপহার এবং সনদপত্র তুলে দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং তার সহধর্মিণী মিসেজ শায়লা পারভীন।
 
ইত্তেফাক/ইউবি