লাফিয়ে পড়ে নিহত সেই যুবক মাকসুদ, স্ত্রীও মারা গেছেন

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ০০:৫৬

এফআর টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় লাফিয়ে পড়ে নিহত হওয়া সেই যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মাকসুদুর রহমান জামি। অগ্নিকাণ্ডের সময় ১১তলা থেকে মাকসুদ লাফ দেন। তার লাফিয়ে পড়ার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই ছবি দেখে সারাদেশের মানুষ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার স্ত্রী রুমকি রহমান ১১তলায় একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ভবনের ভেতর থেকে পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ফরিদাবাদে। রুমকি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গতকাল লোহারপুল জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দুইজনের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তাদের স্বজনরা। জামির বন্ধু মুকিত হোসেন বলেন, ‘জামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে ১১তলায় আমরা নেটওয়ার্ক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিলেন। সেখানে রুমকিও চাকরি করতেন। খুবই ভালো একটি দম্পতি ছিল ওরা। অল্প বয়সে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হলো তাদের। কয়েক বছর আগে জামির বাবা মারা যান। একমাত্র বোন এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে।’

এদিকে পুত্র ও পুত্রবধূর শোকে পাথর হয়ে গেছেন জামির মা। বলছিলেন, ‘দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভবনে আগুন লাগার পর ছেলে আমার সাথে কথা বলেছে। ছেলে জানায়, মা আগুন লেগেছে। তোমরা দোয়া করো। আগুন ওপরে আসেনি তবে প্রচণ্ড ধোঁয়ায় টিকতে পারছি না। আমরা দুইজনে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি। এরপর আর ছেলে কথা বলেনি আমার সাথে। পরে ফোন করেও পাইনি ছেলেকে। ছেলে আমার লাশ হয়ে ফিরল।’

জামির একমাত্র বোন চিত্কার করে বলছিলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর ওই আমার বাবা ছিল। সব আবদার পূরণ করত। ভালো জায়গায় পড়াতে চেয়েছিল। অনেক বড় করে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। আজ সেও চলে গেলো। আমার আর কিছুই থাকল না। আগামী ডিসেম্বরে পাশেই নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটে ওঠার কথা ছিল সবাইকে নিয়ে। ব্যাংকে লোন করে ৭০ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছে ভাই ও ভাবি। ভাবি চার মাসের অন্তঃস্বত্বা ছিলেন। অনাগত শিশুও চলে গেলো। আমাদের আর কিছুই যে থাকল না।’

এদিকে রুমকির মা মেয়েকে হারিয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। বিড়বিড় করে বলছিলেন, ‘আগুন লাগার পর মেয়ে কয়েকবার ফোন করে বলেছে, মা আর টিকতে পারছি না। কষ্ট হচ্ছে। তোমরা দোয়া করো। এরপর আবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ফোন করে জানায়, মা আর পারছি না। দম বন্ধ হয়ে আসছে। জামি তার বেয়ে নেমে গেছে। দেখি কিছু করতে পারে কিনা। আগুন লাগার বিষয়টি নীলফামারীতে তার বাবাকেও ফোন করে জানিয়ে দোয়া চেয়েছে সে। এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। শেষে লাশ হয়ে ফিরল মামনি আমার। রুমকি জানতোই না যে, জামিও লাফ দিয়ে মারা গেছে।’