রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৮ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। আজ সোমবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষী এস.আই মোঃ ওলিয়ার রহমান, মোঃ নুরুজ্জামান, এ.এস.আই মোঃ দুলাল মিয়া, মোঃ নুর আলম, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ মাসুদ রানা, মোঃ সৈয়দ আলী, মোঃ আল ইমরান। এই নিয়ে ৫৭ সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।
উল্লেখ্য, রংপুর চাঞ্চল্যকর জাপানী নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ গত ১৮ জানুয়ারি বুধবার বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্রের আদালতে শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি রংপুর মহানগরীর মুন্সিপাড়া এলাকায় জাকারিয়া বালা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি রংপুর মহানগরী থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে মাহিগঞ্জের পাশে কাউনিয়া উপজেলার নাছনিয়া বিল আলুটারী এলাকায় শাহ আলমের ২ একর জমি ইজারা নিয়ে উন্নতজাতের নেপিয়ার ঘাস আবাদ করতেন। নেপিয়ার ঘাসের খামারে কোনিও হোশি অন্য একটি ফসলের বীজ গোপনে উৎপাদন করেছিলেন। এই বীজটি জাপানে উৎপাদন নিষিদ্ধ রয়েছে। যা খুবই মূল্যবান ছিল বলে জানা যায়।
প্রতিদিনের ন্যায় ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে কাউনিয়া উপজেলার নাছনিয়া বিল আলুটারী এলাকায় তার কোয়েল ঘাষের খামার বাড়িতে যাওয়ার পথে ৩ জঙ্গি তাকে গুলি করে। পরে স্থানীয় লোকজন আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় কাউনিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৩ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মন্ত্রীসহ ৮ জনের নামে চার্জশীট দাখিল করে। অপর আসামীরা হলো ইসহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাইদ, সাখাওয়াত হোসেন, আহসান উল্লাহ, সাদ্দাম হোসেন, নজরুল ইসলাম।
এদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন ও নজুরুল ইসলাম ক্রস ফায়ারে নিহত হয়। আহসান উল্লাহ নামে অপর জঙ্গি পলাতক রয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
