লেখাপড়া করে বড় হতে চায় দুই বোন রাবিয়া ও ছাবিহা। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে তাদের বাবা ইউনুস আলী। বাবার ইচ্ছা দুই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার।
ইউনুস আলী তার দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে প্রথম স্ত্রীসহ ওই ২ মেয়ে ও ১ সন্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে চলেছে প্রায় ৩ বছর। এরপরেও অনেক কষ্টে লেখাপড়া করে এইচএসসি পাশ করেছে বড় মেয়ে রাবিয়া। ছোট মেয়ে ছাবিয়া এবার ইসলামি একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিবে।
এর মধ্যে বাবা উঠে পড়ে লেগেছেন দু’বোনকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। বাবার এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শুধু লেখাপড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়নি, মা-সহ তাদের ওপর চালানো হয়েছে শারিরিক নির্যাতন। নিরুপায় হয়ে রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে চোখের পানি ফেলেছে দু’বোন।
সরেজমিন নির্যাতিত রাবিয়া (১৭) ও ছাবিহা (১৫) এর সঙ্গে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কথা বলে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার চাকিপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর প্রথম স্ত্রীর মেয়ে তারা। রাবিয়া বলেন, মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছি। এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিলাম। দু’বোন লেখাপড়া শিখে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। মায়ের সব যন্ত্রণা মুছে ফেলে তার মুখে হাসি ফুটাতে চাই।
রাবেয়া বলে, তার পিতা ইউনুস আলী, তার দ্বিতীয় স্ত্রী নার্গিস বেগমের কথায় তাদের মা রওশনারা’কে অন্যায়ভাবে মারপিট করে। তাদের পড়া লেখার সময় বিদুৎ এর আলো বন্ধ করে দেয়। পড়ালেখার যাবতীয় সামগ্রী ও পরিধেয় পোশাকাদিও কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন উঠে পড়ে লেগেছে বিয়ে দেওয়ার জন্য। প্রতিবাদ করলে শুধু মাকেই নয়, তাদেরকেও নির্যাতন করে। নিরুপায় হয়ে নির্বাহী অফিসারের নিকট এসেছি শুধু বাবার বিচার নয়, নিরাপত্তাসহ পড়ালেখার সহযোগিতার জন্য।
এদিকে তাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানার জন্য পরদিন সোমবার (৩০-০১-১৭) ইউনুস আলীর বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে রাবিয়া ও ছাবিহার মা’ রওশনারা বলেন, স্বামীর নির্যাতনের কথা বলে শেষ করতে পারবো না। এর আগে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। তার পরেও সংসার করছি শুধু দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে।
রওশনারা’র ভাই হুসবান আলী বলেন, কারণে অকারণে আমার বোনের ওপর অমানষিক নির্যাতন আমার দুলাভাই ইউনুস আলীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বোনকে এমন নির্যাতন করা হয়েছে, স্থানীয় হাসপাতাল থেকে শহরের হাসপাতালে নিতে হয়েছে। সব ঘটনা সইতে না পেরে অবশেষে থানায় মামলা করেছিলাম। পরে গ্রাম্য শালিসে মিমাংসা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউনুস আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে কোন লাভ হবে না। প্রয়োজনে তিনি তার প্রথম স্ত্রী-কে বিদায় করে দিবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুল ইসলাম জানান, তাদের বিষয়টি সমাধানের জন্য ছাবিহার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে ইউনুস আলীকে ডেকে ছিলাম। কিন্তু সে আসেনি। পরে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হীরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএন
