রাজাপুরে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নানা সমস্যায় জর্জরিত

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:৫৬

ঝালকাঠির রাজাপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় ২০০৯ সালের ১৮ আগস্টে। উদ্বোধনের পর দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে আছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।

এমনিতেই চিকিৎসক সংকট চরমে তারপর যে ক’জন চিকিৎসক রয়েছেন তারাও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ে ক্লিনিকে সেবা দিতে বেশি উৎসাহী বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

ফলে উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা এখন ক্লিনিক নির্ভর হয়ে পড়েছে। কিন্তু তা দেখার কেউ নেই। এসব কারনে উপজেলার ৭৪টি গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, মাঠকর্মী ৫০টি পদের ৫টি শূন্য, সাপোর্ট স্টাফ ১৯টির ৬টি ও অন্যান্য কর্মচারীর ১৬টির ৩টি পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যার শুরু থেকে ডাক্তারের ২২টি পদের ১০ জন বিশেষজ্ঞসহ ১৬ টি পদ শূন্য রয়েছে। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৩তম বিসিএস’র ডেন্টাল চিকিৎসকসহ ৬ জন ডাক্তার কাগজ কলমে রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহাবুবুর রহমান এবং সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আঃ রহিমের যোগসাজসে গত ২০১৫ ইং সাল থেকে ডাঃ রাফি আক্তার, ডাঃ ইশিতা দাস, ডাঃ শিউলি আক্তার ও ডেন্টাল ডাঃ মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ডেপুটিশনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সুত্রে জানা গেছে, মেডিকেল টেকনোলজি ল্যাবের ২টি পদ ৫ বছর ধরে শূন্য থাকায় ল্যাব ব্যবহার না করায় ল্যাবের যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এক্সরে মেশিন অপারেটর ২ বছর না থাকায় ভালো এক্সরে মেশিনটি আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্সরে মেশিন ও ল্যাব চালু না থাকায় বাহিরের অননুমোদিত অবৈধ ডায়গনিষ্টিক সেন্টারগুলোর পোয়াবারো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহাবুবুর রহমান এবং ৮ জন স্বাস্থ্য সহকারীর ৪ জন নিজেদেরকে ডাক্তার হিসেবে জাহির করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিকে সময় দিচ্ছেন বেশি।

এসব কারণে বাধ্য হয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিভিন্ন ক্লিনিকে চড়া মুল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহাবুবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ডাক্তার সংকট রয়েছে। ঝালকাঠি সদর হাসপতালে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪ জন ডাক্তার ডেপুটিশনে রয়েছে, সেখানে ডাক্তার সংকট তো আছেই, তাছাড়া তারাও এখানে আসতে চাচ্ছে না।

এছাড়া বর্তমানে তিনিসহ রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৪ জন থাকলেও একজন ট্রেনিংয়ে থাকায় তিনি বাদে মাত্র ২ জন চিকিৎসক রয়েছে।

সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, একটু সমস্যা হচ্ছে। তা সমাধানে এখন তিনিই আউটডোরেও রোগী দেখছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএন