পাকিস্তানে বছরে ধর্ষণের শিকার ৭০০ নারী

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৭, ১০:৪৩
প্রতি বছর পাকিস্তানে ৭০০ নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়। এরপর জোর করে ধর্মান্তরিত করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে এক মুসলিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
 
সম্প্রতি পাকিস্তানে ৩ জন খ্রিস্টান নারী মুসলিম যুবকদের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে তাদের উপর অত্যাচার করা হয়, যার পরিণতিতে মারা যান একজন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই রিপোর্ট সামনে এসেছে।
 
ব্রিটিশ পাকিস্তানি খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও মানবাধিকার কর্মী উইলসন চৌধুরী জানিয়েছেন, গত ১৩ জানুয়ারি লাহোরে ওই ঘটনাটি ঘটে। ১৭, ১৮ ও ২০ বছর বয়সী ওই তিন কিশোরী-যুবতি বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি গাড়িতে করে তাদের পিছু নেয় কয়েকজন যুবক। তাদের কু-প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে রাজি হননি তারা।
 
আর তখনই তাদের পিছু নেয় যুবকরা। প্রাণ ভয়ে শঙ্কিত তিন কিশোরী-যুবতি দৌড়তে শুরু করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। যুবকরা গাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তাদের। দু’জন গাড়ির ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাদের শরীরের হাড় ভাঙে। অন্যদিকে, ওই সময় ৭ বছর বয়সী কিরণ মাশিকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। গাড়ি চাপা পড়ে মারা যায় সে।
 
উইলসন চৌধুরী জানান, ঘটনার পর অভিযোগ করা হয়। পাকিস্তান পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হয়নি। তদন্তে দেরি করা হয়।
 
তিনি আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানে নারীদের সম্মান কম। সেখানে খ্রিস্টান নারীদের প্রতি অন্যায় হলে সুবিচার পাওয়া যায় না। বর্তমানে পরিস্থিতিটা এরকম জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, কোনো অন্য ধর্মের নারীদের ধর্ষণ করাটা স্বাভাবিক ঘটনা।
 
অপর একটি ঘটনার উল্লেখ করে উইলসন চৌধুরী জানিয়েছেন, অন্য এক মুসলিম যুবক ৯ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করতে গিয়ে বলে, সে এই সব করতে ভয় পায় না। কারণ, এইভাবে অনেককে ধর্ষণ করেছে সে।
 
ইত্তেফাক/এএম