অর্থাভাবে বন্ধ হতে পারে মুসার লেখাপড়া

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৩৩
 
তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে মোশাব্বির হোসেন মুসার বাবার বাড়ি বিলীন হয়ে গেলে তাদের আশ্রয় হয় মামা রাজমিস্ত্রি তৈয়ব আলীর বাড়িতে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় মুসা। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি পত্রিকা বিক্রি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছে। এবার জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছে মুসা। 
 
মুসার মা নেই। তার বোন দ্বিতীয় শ্রেণিতে, এক ভাই চতুর্থ শ্রেণিতে আর অন্য ভাই প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। এই অবস্থায় অর্থাভাবে যেকোন মহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অদম্য মেধাবী মুসার লেখাপড়া।
 
মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজারে পত্রিকা বিক্রির সময় কথা হয় মুসার সঙ্গে। সে জানায়, তাদের বাড়ি উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন গ্রামে। বিগত ৪ বছর আগে তিস্তা নদীর কালগ্রাসে একমাত্র সম্বল ভিটেটুকু বিলীন হয়ে যায়। তাদের আশ্রয় হয় মামার বাড়িতে। মামার অভাবের সংসারে তাদের ঠাঁই হলেও দু'বেলা দু'মুঠো খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।
 
শত প্রতিকূলতা স্বত্বেও থেমে রাখতে পারেনি মুসাকে। সে ভর্তি হয় খামার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুল শেষে দুপুরের পর উলিপুর শহর থেকে বিভিন্ন পত্রিকা নিয়ে থেতরাই বাজারসহ আশপাশের এলাকার পাঠকের হাতে তুলে দিতে নিরন্তর ছুটে চলে। উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসারেরও কিছুটা চাহিদা মেটায়। চলতি বছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অদম্য এ মেধাবী সবাইকে তাক লাগিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মুসা জানায়, স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করে। ভবিষ্যতে লেখাপড়ার চালিয়ে যেতে পারবে কী-না বলেই হু-হু করে কেঁদে উঠে।
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক কুমার রায় জানান, ছেলেটি মেধাবী, তবে অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ না হলে সে জীবনে ভাল কিছু করবে। 
 
ইত্তেফাক/এসএস