রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মশিয়ার রহমান (৩৮) ও বিজয় চন্দ্র দোমাসু (৩০) নামের দুই ডাকাত নিহত হয়েছে। বুধবার ভোর ৩টা ২০ মিনিটে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কুর্শা পাকজানপাড়া গ্রামের নেংটিছেড়া ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর দর্জিপাড়া গ্রামের মৃত জাকারিয়ার পুত্র আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সর্দার মশিয়ার রহমান ও রংপুর সদর উপজেলার কুর্শা বলরামপুর গ্রামের বিজেন চন্দ্র রায়ের পুত্র বিজয় চন্দ্র দোমাসু এ বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন।
তারাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা পিপিএম জানান, গত বুধবার ভোর রাত ৩টা ২০ মিনিটে ১০-১২জনের একটি ডাকাত দল রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের নেংটিছেড়া ব্রিজের পুর্ব দিকে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে তারাগঞ্জ থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি বর্ষণ করলে ঘটনাস্থানে আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সর্দার মশিয়ার রহমান ও বিজয় চন্দ্র দোমাসু নামের দুই ডাকাত নিহত হন। বাকি ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বেশ কিছু দেশিও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ডাকাতের হামলায় তারাগঞ্জ থানার এস. আই (সাব ইন্সপেক্টর) আমিনুল ইসলাম, এস. আই মিজানুর রহমান, এস. আই মশিয়ার রহমান, এ.এস.আই আব্দুর রহিম, দুই কনস্টেবল রাশেদ ও সাখাওয়াত আহত হন।
তাদের স্থানীয় তারাগঞ্জ স্বাস্থ কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা পিপিএম জানান।
পরে নিহত দুই ডাকাতের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তারাগঞ্জ থানার ওসি আরো জানান, নিহত ডাকাত মশিয়ার রহমানের নামে তারাগঞ্জ থানায় ডাকাতি ছিনতাই চুরি দস্যুতা সহ ২১টি মামলা রয়েছে। তাকে তারাগঞ্জ থানা সহ বিভিন্ন থানার পুলিশ একাধিকবার আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছিল।
অন্যদিকে নিহত বিজয় চন্দ্র দোমাসুর নামে রংপুর কোতয়ালী গঙ্গাচড়া ও ঢাকা আশুলিয়া থানায় একাধিক ডাকাতি ছিনতাই ও খুনের মামলা রয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, রংপুর জেল হাজতে বন্দি থাকা অবস্থায় গত ২৮মে ২০১৬ ইং সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলমপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউ’পি সদস্য প্রার্থী ছিলেন ডাকাত সর্দার মশিয়ার রহমান। ওই নির্বাচনে তিনি মাত্র ৬৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
ইত্তেফাক/এএন
