কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সাবেক দাশিয়ার ছড়া সাবেক ছিটমহলের মাঝখানে ১৯৯৪ সাল থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় স্থাপিত উত্তর চন্দ্রখানা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২২ বছর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ২০১২ সাল থেকে মোট চারবার এখানককার শিক্ষার্থীরা সমাপনীতে অংশ নেয়।
২০১৬ সালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উত্তর চন্দ্রখানা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বিনামূল্যের বই বরাদ্দ দেয়। ওই বছর সমাপনী পরীক্ষায় ৯ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শতভাগ পাশের পাশাপাশি ৮জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। কিন্তু ২০১৭ তে এসে বিদ্যালয়টি নতুন বই পায়নি।
ফলে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। প্রদিতিন স্কুলে এসে খেলাধুলা করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। বই বরাদ্দ তালিকায় নাম থাকার পরও শিক্ষা অফিসে বারবার যোগাযোগ করা হলেও শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতিতে বই দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের।
জানা গেছে, উত্তর চন্দ্রখানায় ১৯৯৪ সালে স্থাপিত হয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। স্থানীয় তিন দানশীল ব্যক্তি স্কুলের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। ছিটমহলবেষ্টিত থাকায় বিদ্যালয়টির নিবন্ধন হয়নি। তবে থেমে থাকেনি শিক্ষা কার্যক্রম। নিজেদের অর্থে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন শিক্ষকরা।
গত ৩১ আগস্ট ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হলে কর্তৃপক্ষ স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট লিখিত আবেদন জানায়।
আবেদনের প্রেক্ষিতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৯ জুন ২০১৫ সালে স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য প্রতিবেদন চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট পত্র দেয়। কিন্তু এ পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কমিটি আজো প্রতিবেদন দেয়নি।
উপায় না পেয়ে উত্তর চন্দ্রখানা স্কুল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে। যার নং- ৫৩৮০/১৬। এর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
উত্তর চন্দ্রখানা বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আলেমা খাতুন জানান আমরা দীর্ঘদিন থেকে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে বিনা বেতনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এবার আমরা এখনও নতুন বই পাইনি।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার অধীকারীর মোবাইল ফোনে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নি।
ইত্তেফাক/এএন
