দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারীকে বাদ দিয়ে কোন উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে একটি সেমিনারে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া সফটএক্সপোর প্রথম দিনের বৈকালিক অধিবেশনে ‘টেক উইমেন কনফারেন্স ২০১৭’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ মন্তব্য করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মনির হাসান বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলয়ে বর্তমানে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ে, যাদের মধ্যে ৯৫০০ জন নারী। কিন্তু পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ার হিসেবে প্রোগ্রামিংকে বেছে নেন তাদের সংখ্যা এক শতাংশেরও কম। শিক্ষাজীবনেও বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে মেয়েদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ অনেক কম। মাত্র ১৩ শতাংশ শিক্ষিত নারী কর্মক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আইটি উদ্যোক্তার মধ্যে এর অংশ মাত্র তিন শতাংশ।
IMG0
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স বিভাগের চেয়ারপারসন প্রধান লাফিফা জামাল বলেন, এমন নয় যে আমাদের দেশের মেয়েরা কাজ করতে চায় না। কিন্তু মানসিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক কিছু পুরনো রীতি নীতির কারণে নারীরা পিছিয়ে আছে। তাদের এই প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ কর্মরত মেয়েরা তাদের কর্মক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে আনছে।
সেমিনারে আইসিটি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মালিহা নার্গিস বলেন, বর্তমান কালে মেয়েরা আমাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে। ইন্টারনেট এই পার্থক্যটি তৈরি করে দিয়েছে। এখন মেয়েরা চাইলে ঘরে বসেও আয় করতে পারে। তিনি দেশের নারী সমাজকে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়ে উদ্যোক্তা হবার আহ্বান জানান।
বেসিস সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, গ্রামীণ কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা এবং র্যাংকসটেলের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহনাজ কবীরসহ আরো অনেকে।
ইত্তেফাক/ইউবি
