ব্যবহারের অনুপযুক্ত ঘিওর মাইলাগীর আশ্রয়ণ প্রকল্প

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:৫৬

মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলার মাইলাগী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮টি ব্যারাকের মধ্যে ৫টিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট ৩টি ব্যারাকে মোট ২৮টি কক্ষ রয়েছে যার মধ্যে ১২০ জন লোক বসবাস করে। তবে এ ব্যারাকের ঘরগুলো ভেঙেচুরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সম্পূর্ণ ব্যবহার অযোগ্য হওয়ায় ৫টি ঘরের বাসিন্দারা অন্যত্র চলে গেছে। কোনো ঘরের চাল আছে তো বেড়া নেই, আবার বেড়া আছে তো দরজা নেই চালের টিনগুলো ভাঙ্গা। বৃষ্টি এলেই পানি পড়ে।

এখানকার বেশিরভাগ নলকূপ থেকে পানি ওঠে না। টয়লেট সমস্যাও প্রকট। এখানকার বাসিন্দারা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে বলছেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ব্যবহার অযোগ্য এসব ঘরে মানবেতর অবস্থায় বসবাস    করছেন।

২৮টি আশ্রয়হীন পরিবার বর্তমানে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে বসবাস করছে।

সরজমিনে আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে জানা যায়, ২০০৬ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। এখানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২০জন মানুষ বসবাস করছে। আশ্রিত পরিবারের সংখ্যা ২৮টি। এদের জন্য নির্মিত নলকূপ সচল আছে মাত্র চারটি। প্রতি পাঁচ পরিবারের জন্য বাথরুম আছে একটি, তাও আবার ব্যবহার অযোগ্য। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দারা। নির্মাণের পর থেকে এ আশ্রয় কেন্দ্রের কোনো প্রকার সংস্কার হয়নি।সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য নেই ন্যূনতম চিকিত্সার ব্যবস্থা।

উপজেলার মাইলাগী আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান-আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো মেরামত, টয়লেট, টিউবওয়েল ও আশ্রমের উত্তর পাশে নদীর পাড় ঘেঁষে মাটি দিয়ে ভরাট করে প্যালাসিটিং করা প্রয়োজন। তা না হলে সামনের বর্ষায় সম্পূর্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্প নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি জানান, এখানে যাতায়াতের রাস্তাটাও ভাঙা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনেকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। আমরা সরকারিভাবে কোন সুযোগ সুবিধা পাইনি। নেই শিশুদের কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা। আশ্রয়ণ প্রকল্পের যেসব ঘর ধলেশ্বরীর গর্ভে বিলীন হয়েছে সেখানকার বেশিরভাগ পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কোনো বাজেট নেই, মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলেই মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করে যেন জরুরি ভিত্তিতে বসবাস অযোগ্য আশ্রয়ণ প্রকল্প মেরামতের ব্যবস্থা করা হয়।

ইত্তেফাক/এএন