রাকিব হাসান (২৪)। আর ১০ জনের মত স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিয়েছিল সে। আকষ্মিক এক দুর্ঘটনায় রাকিবের শরীর কোমর থেকে নিচের অংশ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যায়। সেই থেকে তার নাম উঠেছে শারিরীক প্রতিবন্ধীর খাতায়।
তা সত্বেও হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া রাকিব ৫ সদস্যের পরিবারের উপার্জনের প্রধান অবলম্বন। বাড়িতে একটি টুমটুমে মুদি দোকান দিয়ে হুইল চেয়ারে বসে ব্যবসা করেন তিনি। আর ওই দোকান থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনমতে চলে রাকিবদের সংসার।
রাকিব উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে। ২ ভাই ১ বোনের সংসারে রাকিব সবার বড়।
জানা যায়, ৭ বছর আগের এক ঈদের আগের দিন, ঈদের সেমাই রান্নার অন্যতম অনুসঙ্গ নারকেল পাড়তে বাড়ির নারকেল গাছে উঠেছিল রাকিব। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার নারিকেল গাছের ওপর থেকে হঠাৎ সে নিচে পড়ে যায়। এতে মারাত্মক আহত হয়। এলাকাবাসী ও স্বজনরা তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল, পরবর্তীতে তাকে ঢাকাতে নিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করায়।
এতে তার পরিবারের বিক্রিযোগ্য সবকিছু বিক্রি ছাড়াও আরও বিভিন্ন স্থান থেকে ধারদেনা করে প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়। এত খরচ করেও রাকিব শুধু জীবন ফিরে পাওয়া ছাড়া প্রতিবন্ধী তালিকায় যাতে নাম না ওঠে তা রোধ করতে পারেননি চিকিৎসকরা। সেই থেকে রাকিব বাড়ির একটি কক্ষের জানালাকে দোকানের পাল্লা বানিয়ে মুদি ব্যবসা করছে।
দোকানের জিনিসপত্র কিনতে তাকে ২ একদিন পরপরই আসতে হয় ৬/৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মিরপুর বাজারে। রাকিবের শারিরীক প্রতিবন্ধকতা এতটাই মারাত্বক যে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে শুধুমাত্র ঘুম আর গোসলের সময় ছাড়া হুইল চেয়ারেই পায়খানা,প্রসাব করতে হয়। দোকানের মালামাল কেনার জন্য তার ব্যবহৃত হুইল চেয়ারটি চালিয়ে বাজারে আসা কঠিন হয়ে যায়।
শুস্ক মৌশুমে যেমন-তেমন বর্ষা মৌসুমে একমাত্র রাকিবদের গ্রাম সারুটিয়ার ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটির কারনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ওই গ্রামবাসীরা এক রকম অবরুদ্ধ জীবন যাপন করে। তখন সারুটিয়া গ্রামবাসীদের সঙ্গে রাকিবদের দুর্বীসহ জীবন কাটে। এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে, রাকিব জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের গ্রামের মাত্র ২ কিঃ মিঃ কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরনের পাশাপাশি তাকে যদি সমাজের সরকারী/বেসরকারী সংস্থা অথবা যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যাক্তি একটি ৩৫/৪০ হাজার টাকা মুল্যের ৩ চাকার একটি চার্জার হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে তার সীমাহীন কষ্টের জীবনের কিছুটা লাঘব হত।
ইত্তেফাক/এএন
