ইতি নিখিল বঙ্গ ভাবিসমাজ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ১৯:২১

 

ঘোষণা করা হয়েছে, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষাপদ্ধতি থাকবে না। এই ঘোষণার ফলে বেশ কিছু অসুবিধায় পড়েছেন বাংলার ভাবিসমাজ। তারা এর প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি প্রেরণ করতে ইচ্ছুক। সেই চিঠি কেমন হতে পারে, সেটা ভেবেছেন ঠাট্টারু আশরাফুল ইসলাম

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,

বাংলার ভাবিসমাজের মনের আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা। আপনি নিশ্চয়ই কারও না কারও ভাবি। আপনি নিজে ভাবি হয়ে বাংলার ভাবিদের প্রতি এই অবিচার কেমন করে করলেন? আপনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষাপদ্ধতি বাতিল করেছেন। এই ঘোষণা দেওয়ার আগে আপনি ভাবি সমাজের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেননি? আপনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন, অথচ একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রেস্টিজিয়াস ইস্যু নিয়ে আপনি ভাবিসমাজের সঙ্গে একটু আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করলেন না। যাই হোক, এই ঘোষণার ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

প্রথমত, আমাদের সামাজিক স্ট্যাটাস বজায় থাকে বাচ্চাদের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। ধরেন আমার ছেলের রোল হলো এক, কিংবা সে ‘এ’ প্লাস পেল। তখন পাশের ফ্ল্যাটের ভাবির সামনে আমার অহংকার বেড়ে যায়। আমি হেলেদুলে বলতে পারি, ‘জানেন ভাবি, আমার ছেলে পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছে। যদিও পরীক্ষার সময় কিছুটা অসুস্থ ছিল, তবুও প্রথম হয়েছে। অবশ্য গোল্ডেন প্লাস পায়নি বলে ওর বাবা রাগ করে আছে। কথা বলছে না। যাই হোক, আপনার ছেলের খবর কী?’

তখন পাশের ফ্ল্যাটের খারাপ রেজাল্ট করা ছাত্রের মা সাধারণত বলে, ‘আর বইলেন না ভাবি, আমার ছেলে এক নম্বরের গাধা। বাসায় পাঁচটা মাস্টার রেখেছি, সবসময় পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখি, খেলতে পর্যন্ত যেতে দিই না। তবুও খারাপ করেছে। ৪.৬০ পেয়েছে। তাহলে আর ফেল করার মধ্যে পার্থক্য থাকল কী! তা আপনার ছেলে কোন কোচিংয়ে পড়ে যেন, আমারটাকেও ওখানে ভর্তি করাব, দেখি উন্নতি হয় কি না!’

এসব সামাজিক মানসম্মান ধরে রাখার জন্য আমাদের বাচ্চাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। সুতরাং আপনার এ ঘোষণায় আমরা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। খুব শিঘ্রই আপনি আপনার সিদ্ধান্ত বদল করে বাচ্চাদের যাতে পরীক্ষাপদ্ধতি চালু থাকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই প্রত্যশায়....

ইতি

নিখিল বঙ্গ ভাবিসমাজ