রিকশা কেন আস্তে চলে না?

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ১৯:২২

 

‘এক পলকেই চলে গেল, আহ কী তার মুখখানা! রিকশা কেন আস্তে চলে না?’ সঞ্জীব চৌধুরীর একটি জনপ্রিয় বিখ্যাত গান। এই গানে মূলত সঞ্জীব চৌধুরী কেন চেয়েছিল রিকশা আস্তে চলতে তারই কিছু গোপন রহস্য উদঘাটন করেছেন ঠাট্টারু

এমদাদ হোসেন শরীফ

 

v সঞ্জীব চৌধুরী তার প্রেমিকাকে দেখার জন্য প্রতিদিন পাড়ার মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতেন। কিন্তু কিছুতেই প্রেমিকার দেখা মিলত না। একদিন হুট করে সঞ্জীব চৌধুরী তার প্রেমিকাকে রিকশা চেপে কলেজে যেতে দেখলেন। ভাবলেন রিকশা থামিয়ে আজই প্রপোজ করবেন। কিন্তু অগত্যা রিকশা হাওয়ার বেগে দ্রুত চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে গেল। সঞ্জীব চৌধুরী তাই আক্ষেপ করে গানের সুরে সুরে বললেন, রিকশা কেন আস্তে চলে না?

 

v ঢাকার রাস্তায় প্রেমিকাসহ সঞ্জীব চৌধুরী একদিন রিকশাযোগে বাসন্তী সাজে ঘুরতে বের হলেন। উদ্দেশ্য সারাদিন রিকশায় ঘোরাফেরা করে পুরান ঢাকায় কাচ্চি খাবেন। রিকশা চানখারপুল পেরুতে না পেরুতেই খানাখন্দ ও ম্যানহোলের গর্তে পরে উল্টে যায়। সঞ্জীব চৌধুরী রিকশা থেকে পরে গিয়ে কোমড়ে, হাঁটুতে তীব্র ব্যথা পেয়ে কাতরাতে কাতরাতে বলতে থাকে, রিকশা কেন আস্তে চলে না।

 

v সঞ্জীব চৌধুরী পাড়ার ফ্লেক্সিলোড দোকানদারের কাছে বাকিতে রিচার্জ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতেন। ফ্লেক্সিলোডের টাকা আজ দেবেন কাল দেবেন করে করে দোকানদারের সঙ্গে ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলছেন। দোকানদারও হন্যে হয়ে খুঁজছেন তাকে। একদিন সঞ্জীব চৌধুরী বাজার-সদাই করে রিকশা চড়ে যাওয়ার সময় দূর থেকে ফ্লেক্সিলোড দোকানদারকে দেখলেন। পাওনাদারের মুখোমুখি হওয়ার ভয়েই সঞ্জীব চৌধুরী রিকশাওয়ালাকে জোরে চালানোর তাগাদা দিলেন। রিকশাওয়ালাও তার কথা শুনে হালে বাতাস লাগালেন, মানে জোরে জোরে প্যাডেল চাপতে লাগলেন। সঞ্জীব চৌধুরীকে ধরতে না পেরে পিছন থেকে সেই পাওনাদার বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন, ‘রিকশা কেন আস্তে চলে না?’ সেটাই পরে তিনি গানের কলি হিসেবে যুক্ত করেন।

 

v আসলে এসব কিছুই না। সঞ্জীব চৌধুরীর মূলত রিকশাভীতি ছিল। রিকশায় উঠলে তার মধ্যে একটা ভয় কাজ করত এই বুঝি রিকশাওয়ালা জনমানবশূন্য কোনো চিপাগলিতে নিয়ে তাকে শূন্য করে ছেড়ে দেয়। মূলত তার এই রিকশাভীতি আড়াল করতেই সে প্রেমিকার নাম করে হাহাকার বিষাদ মাখিয়ে গান গাইছে, রিকশা কেন আস্তে চলে না?