শিবগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ১৭২ ফুট বাঁশের সাঁকো

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:২৮
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৫ দিনে স্বেচ্ছাশ্রমে ১৭২ ফুট বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিকের তত্ত্বাবধানে পৌর এলাকার ভুরঘাটা- চাউলাপাড়া এলাকায় গাংনই নদীর ওপর সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। আশপাশের আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এর উপকার ভোগ করতে শুরু করেছেন। আগে যারা ৩ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে উপজেলা সদরে আসতেন, এখন তারা বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে মুহূর্তেই যাতায়াত করছেন।
 
জানা গেছে, ভুরঘাটা ও চাউলাপাড়া গ্রাম দুটিকে ভাগ করে রেখেছে গাংনই নদী। নদীর ওপারের চাউলিয়াপাড়া, পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ, পানাতিয়াপাড়া ও চাঁদনিয়া শিবগঞ্জসহ চারটি গ্রামের মানুষদের উপজেলা সদরে আসতে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরতে হতো। একটি মাত্র সেতুর অভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল।
 
জনদুর্ভোগের এই চিত্র জানার পর শিবগঞ্জের পৌর মেয়র উদ্যোগ নেন সেখানে একটি বাঁশের সাকো নির্মাণের। স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তারও মেয়রের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান। সেইসাথে সাঁকো নির্মাণে সকলে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। পৌর মেয়রের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আরো এগিয়ে আসেন উপজেলা ছাত্রলীগ, আশার আলো যুব সমবায় সমিতি, চাউলাপাড়া আনসার-ভিডিপি ক্লাব ও পাওয়ার বয়েজ স্পোটিং ক্লাবের নেতা-কর্মী ও সদস্যরা।
 
৩০ জানুয়ারি শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী স্বেচ্ছাশ্রমে নেমে পড়েন কাজে। এদের মধ্যে কেউ দিয়েছেন বাঁশ, কেউ দিয়েছেন দড়ি, লোহা, কাঠ, আবার কেউ দিয়েছেন শ্রম। এভাবেই মাত্র পাঁচদিনের অক্লান্ত স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ হয়েছে ১৭২ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো।
 
পৌর কাউন্সিলর ভুরঘাটা মহল্লার বাসিন্দা আবু সাঈদ জানান, এ সাঁকোটি নির্মাণে তিন শতাধিক বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। যার সবই স্বেচ্ছায় দান করেছেন জনগণ।
 
চাইলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, সাঁকোটি নির্মাণের ফলে গাংনই নদীর দুপাড়ের লালদহ, কালিপাড়া, ভুরঘাটা, নাটমরিচাই, চাউলিয়াপাড়া, পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ, পানাতিয়াপাড়া ও চাঁদনিয়া শিবগঞ্জের প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
 
শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু জানান, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী নিজে বাঁশ কেটে কাঁধে করে বয়ে এনে সাঁকোটি নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। ভালো কাজে শরিক হতে পেরে ছাত্রলীগ গর্বিত। তিনি বলেন, ভালো যে কোনো কাজের ডাক পেলে ছাত্রলীগ তা করবে। 
 
শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, গাংনই নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের মতো আর্থিক সক্ষমতা পৌরসভার নেই। এজন্য জনদুভোর্গ লাঘবে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে স্থানীয় মানুষদের সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। সাঁকো নির্মাণের ফলে এখন আট গ্রামের ১০ হাজার মানুষ অতি কম সময়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন। সেই সঙ্গে কৃষকরা তাদের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। 
 
উল্লেখ্য, গত শনিবার সাঁকোটি উদ্বোধন করেন শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ সাবু, কাউন্সিলর আবু সাঈদ, হারুনুর রশীদ, মোমিনুল ইসলাম মোমিন, শাহীনুর রহমান শাহীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ লতিফ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল হক দুদু, ছাত্রলীগ নেতা রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু ও রাকিব হাসান প্রমুখ।
 

ইত্তেফাক/এএম।