গরমে শরম নাই

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ১৯:২৩

g অয়েজুল হক

 

ঘুম ভাঙতেই পেটের মধ্যে মোচড় দেয়। রাতের প্রথমভাগে ঘুম হয়নি। প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিং দুটো মিলিয়ে জীবনের বিরক্তিকর রাতের মধ্যে অন্যতম রাত। অবশ্য শেষ রাতের দিকে বেশ আয়েশি ঘুম হয়েছে। একটু শীতল পরশ। বেঘোরে ঘুম। স্বপ্ন। স্বপ্নগুলো জীবন্ত, মধুর! কেক মিষ্ট, হালুয়া খেয়ে খেয়ে সোনালি স্বপ্ন চলছে। গালে স্বাদ। বেরসিক নিলু মেয়েটাই যত নষ্টের গোঁড়া। ‘স্যার, এ কী করছেন, কাঁথার অর্ধেক তো খেয়ে ফেললেন!’ মামুন সাহেব চোখ মেলে তাকান। কাথার কিছু অংশ গালের ভিতর। কিছু ছিঁড়ে গেছে। ঘুম ভাঙার পর মেজাজ কিছুটা ঠাণ্ডা থাকে বলেই নিলুকে কষে থাপ্পড় মারেনি। পুরা কাঁথাটা খেয়ে ফেললেই বা কাজের মেয়েটার কী!

‘আমি কাঁথা-বালিশ যা খাই খাব তাতে তোর কী?’

‘কিচ্ছু না। ভাবিকে একটু বলি...’

‘এই আমি তোর ভাবিকে ভয় পাই নাকি!’ কথা শেষ হয় না, পেটের মধ্যে গড়গড় ঘড়ঘড় ফড়ফড় শব্দ হয়। পেট কামড়ায়। লাফ দিয়ে ওঠে। তড়িঘড়ি করে টয়লেটে গিয়ে বসল। টয়লেট শেষ করতে করতে ঘেমে নেয়ে অস্থির। যে গরম পড়েছে তাতে বাথটাবে ঠাণ্ডা পানি ভরে কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম করলে মন্দ হয় না। যেই ভাবনা সেই কাজ। একেবারে দিগম্বর হয়ে বাথটাবে শুয়ে পড়ল মামুন। ‘আহ কি প্রশান্তি!’ ভিতর থেকে কথাটা বেরিয়ে এল।

বাথরুমে ঢোকার পর দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও মামুন বেরোচ্ছে না দেখে চিন্তায় পড়ল সুমি। নতুন বিয়ে, নতুন স্বামী। বেশ কয়েকবার ধাক্কাধাক্কি, ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি। মনের ভিতর উঁকি দিল অজানা আশঙ্কা। বিপদ হলো না তো! অনেক কষ্টে দরজা ফাঁক করে উঁকি দিল। বাথটাবের পানির ভিতর কোনোরকমে নাক বের করে মহিষের মতো শুয়ে আছে তার স্বামী। বেচারা কাল থেকে শুধু গরম গরম করছিল। গরম বাড়ছে প্রতিবছর।

সুমি চিত্কার করল, ‘দরজা খোল মামুন! কী হয়েছে তোমার! দরজা খোলো ...’

চিত্কার শুনে মামুনের বয়স্ক বাবা রশিদ হাওলাদার, তার মা, নিলু দৌড়ঝাঁপ করে ছুটে আসেন। অনেক চিত্কার, দরজায় ধাক্কা-গুঁতা দেওয়ার পর বাথটাবে শুয়ে থাকা মানুন নড়েচড়ে উঠল। কীসের শব্দ! আবার বোধহয় নিলু বদটাই এসেছে। চরম গরমে রাগ মাথায় উঠল। মেজাজি ভঙ্গিতে হয়ে উঠে দাঁড়াল। এবার কষে একটা থাপ্পড় দিতেই হবে। দরজার দিকে এগোল। দরজা খুলেই চোখ ছানাবড়া। একঝাঁক মানুষ। তাদের সামনে দিগম্বর সে। রাগের মাথায় খেয়াল নেই যেভাবে শুয়েছিল সেভাবে উঠে এসেছে। দরজা খুলেছে।

রশিদ হাওলাদারসহ সবাই চোখ বন্ধ করে জিভ কামড়াল।  মামুনের মা নিজেকে সামলাতে পারেন না, ‘ছিঃ ছিঃ। ধাড়ি ছেলের কাণ্ড দেখ!’

নিলু, সুমি দৌড়ে পালাল। মামুন মনে মনে বলল, ‘কী যে হলো! গরমে শরম নাই।’   g