নরসিংদী থেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা তিন তরুণীকে উদ্ধার করেছে চৌগাছা পুলিশ।
রবিবার চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আকিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার হিজলী গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার তরুণীরা হলো নরসিংদী জেলা সদর উপজেলার বাসাইল গ্রামের ফজের আলীর মেয়ে সানিয়া (১৩), তরোয়া ডিসি রোডের সামাদ আলীর মেয়ে অজন্তা (১৮) ও পাঁচদানা গ্রামের মাসুম বিল্লাহর মেয়ে রুবি খাতুন (১৮)।
উদ্ধার হওয়া তরুণীরা জানায়, একই এলাকার বাতেন হোসেন নামে এক ব্যক্তি যশোরে গার্মেন্টসে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শুক্রবার রাতে বাসযোগে তাদের চৌগাছায় নিয়ে আসে। শনিবার সকালে তাদের চৌগাছা শহরের কালিতলার একটি বাড়িতে নেয় এবং রাতে তাদের হিজলী গ্রামের একটি বাগানে রাখে। সেখান থেকে বাতেনসহ তার এক সহযোগী প্রথমে সানিয়াকে নিয়ে যেতে চায়। এ সময় তারা একজনকে নিয়ে যেতে বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে বাতেন ও তার সহযোগীর কথাবার্তা শুনে তারা বুঝতে পারে, তাদের ভারতে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসময় চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন ।
রবিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ হিজলী গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করে। পরে রবিবার সন্ধায় পুলিশ কালিতলার বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে বাড়ি মালিক আমির হামজার স্ত্রী ফুলজান বিবি (৪০) ও মেয়ে রিক্তাকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
আটক ফুলজান বিবি ও রিক্তা পুলিশকে জানায় উপজেলার হিজলী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে ইউসুফ শুক্রবার তাদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে শনিবার ওই মেয়েদের নিয়ে আসে। এ তথ্য পেয়ে পুলিশ নুর ইসলামের গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী সুকজান বিবিকে আটক করে।
সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃতরা সবাই পুলিশ হেফাজতে আছেন। তবে পুলিশ ঘটনার মূল হোতা বাতেন ও ইউসুফকে পুলিশ আটক করতে পারেনি।
চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আকিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার মূল হোতাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এএন
