দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল প্রচলিত ফল বরই বা কুল। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র, সব ধরনের মাটিতেই বরইগাছ জন্মে। একটু ডিম্বাকৃতির বরইকে সচরাচর কুল বলে অভিহিত করা হয়। ফল গোলাকার, ছোট থেকে মাঝারি। ফল পাকলে রং হলুদ থেকে লাল বর্ণ হয়। কাচা ও পাকা দুভাবেই বরই খাওয়া হয়। এর স্বাদ টক ও কাঁচামিঠা জাতীয়। আদি নিবাস আফ্রিকা হলেও বর্তমানে এটি ভারত, আফগানিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় কিছু অঞ্চলে বিস্তার লাভ করেছে। বাজারে এখন নানারকম কুল বা বরই পাওয়া যায়। শীত থেকে গরমের শুরু পর্যন্ত দেশি ফলের অভাব মেটায় দেশি টক বরই ও মিষ্টি কুল। বাজারে এখন টক-মিষ্টি গোল বরই, নারকেল কুল, আপেল কুল, বাও কুল সহজেই পাওয়া যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, বরই বা কুলে আছে প্রচুর ভিটামিন আর খনিজ উপাদান। এটি শুকিয়ে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। কাঁচা ও শুকনো কুল দিয়ে চমত্কার চাটনি ও আচার তৈরি হয়। বরইয়ে আছে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা উপাদান। এগুলো রোগ প্রতিরোধে যেমন ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। বরই ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য মোটেও ভালো নয়। পাকা বরইয়ে চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পাকা বরই সাবধানে খাওয়াই ভালো। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে, কাঁচা বরই বেশি খেয়ে ফেললে তাদের এ সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
বরই বা কুলের উপাদানগুলো শরীরে শক্তি জোগায় এবং দ্রুত অবসাদ কেটে যায়। এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকার ফলে সংক্রামক রোগ যেমন—টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি দূর করতে সহায়তা করে। কুলের রসকে ক্যানসাররোধী হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে রয়েছে ক্যানসার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ ক্ষমতা। যকৃতের নানা রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে এই ফল। বরই অত্যন্ত চমত্কার একটি রক্ত বিশুদ্ধকারক। বরই মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশিও প্রতিরোধ করে। এছাড়া হজমশক্তি বৃদ্ধি ও খাবারে রুচি বাড়ায়।
