পরকীয়ায় প্রবাসী স্বামীকে হত্যা, ৩ মাস পর কঙ্কাল উদ্ধার

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৪১
ময়মনসিংহের ভালুকায় পরকীয়া প্রেমের বলি সৌদি প্রবাসী আবুল হাসেম হত্যার প্রায় তিনমাস পর বিচ্ছিন্ন হাত, পা ও মাথার কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
 
স্বামীর অর্থ আত্মসাতের হীন অভিপ্রায় ও অবৈধ প্রেমের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। 
 
এ ব্যাপারে নিহত হাসেমের স্ত্রী আছমা, কন্যা মুক্তা, শ্যালক সাইফুল ইসলাম ও প্রেমিক মাহমুদুল ইসলাম ওরফে মাহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 
 
সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
 
পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আঙ্গারকারা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে প্রবাসী আবুল হাসেম সৌদি আরব থেকে রোজগারের সমুদয় টাকা তার স্ত্রী আছমা আক্তারের নিকট পাঠাতো। স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় স্ত্রী প্রতিবেশী মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম ওরফে মাহার (৩২) সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে।
 
স্বজনদের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে স্বামী আবুল হাসেম (৫৫) দেশে ফিরে আসেন। পরকীয়ার কথা জানতে চাইলে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে গত ১৪ নভেম্বর রাতে স্ত্রী আছমা আক্তার খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে অচেতন করে। পরে স্ত্রী, কন্যা মুক্তা, শ্যালক সাইফুল ইসলাম ও প্রেমিক মাহাকে নিয়ে আবুল হাসেমকে হত্যার পর মৃতদেহ বিচ্ছিন্ন করে লাশ গুম করে।
 
পরে স্ত্রী, কন্যার কথায় পুলিশের সন্দেহ হয়। এছাড়া ঘটনার পর থেকে স্ত্রী আছমার ভাই সাইফুল ইসলাম (৩৫) পলাতক ছিল। 
 
পুলিশ তদন্তকালে ঘটনার চারদিন পর গত ১৮ নভেম্বর বাড়ির পাশে একটি পোল্ট্রি ফার্মের খালি জায়গা থেকে হাত, পা বিচ্ছিন্ন খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে।
 
এ ব্যাপারে নিহত আবুল হাসেমের ভাই মো. আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ভালুকা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ স্ত্রী আছমা আক্তার (৪৫) ও কন্যা মুক্তাকে (২১) গ্রেফতার করে।
 
পরে মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 
 
ডিবির ওসি ইমারত হোসেন গাজী ডিবির এসআই পরিমল চন্দ্র দাসকে মামলার তদন্তভার দেয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রেমিক মাহমুদুল ইসলাম মাহাকে গত ৪ জানুয়ারি টঙ্গি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
 
আসামিদের কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিঙ্গসাবাদ করা হয়। অবশেষে গত ৫ ফেব্য়ারি আছমার ভাই সাইফুলকে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির পাশের পোল্ট্রি ফার্মের আবর্জনা ফেলার কুয়া থেকে আবুল হাসেমের বিচ্ছিন্ন হাত, পা ও মাথার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
 
পুলিশ সুপার আরো জানান, মামলার স্বার্থে উদ্ধারকৃত লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন