পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক স্কুল ছাত্রকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে আতাইকুলা থানার পুলিশ।
চোর সন্দেহে স্কুলছাত্র অভিকে মেরে ফেলা হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে আসামি জয়নাল।
সরেজমিন ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার শোলাবাড়িয়া গ্রামের ইমরান হোসেন বাবুর ছেলে আতাইকুলা হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র অভি (১৩) পড়াশুনায় অমনোযোগী ছিল। তার পিতা একজন ক্ষুদ্র ওষুধ ব্যাবসায়ী।
অভি লেখাপড়ায় অমনোযোগী হওয়ায় পিতা ছেলেকে মাঝে মধ্যে শাসন করতেন। ঘটনার দিন অভি পরিবারে সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খায়। রাতে খাবার শেষ করে তার ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। বাবার ভয়ে অভি পার্শ্ববর্তী গাঙ্গুহাটী গ্রামে তার ফুফুর বাড়ি যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সামনে থেকে আসা ২/৩ জন পথচারীর শব্দ পেয়ে অভি একই মহল্লার জয়নালের বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত একটি ঘরে ভয়ে লুকিয়ে পড়ে।
আসামিরা পুলিশকে জানান, এ সময় বাড়ির সদস্যরা চোর ভেবে অন্ধকারে অভির মাথায় কাঠ দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রচুর রক্তক্ষরণে অভি গোঙাতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে স্কুলছাত্র অভি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে।
খুনিরা সু-কৌশলে অভির লাশ ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে সটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা প্রেরণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ ওইদিনই জালাল শেখের স্ত্রী বাছিয়াকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে।
এ ব্যাপারে অভির বাবা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন একই গ্রামের মৃত আকবররের ছেলে জয়নাল (৫০), মৃত টালক প্রাং এর ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে ঠান্ডা ও মৃত গণির ছেলে সামছুল।
আতাইকুলা থানার ওসি আ. রাজ্জাক জানান, আসামিরা অভিকে চোর সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন/ইউবি
