মেহেরপুরের সেই পরিবারের পাশে মুম্বাইয়ের হাসপাতাল

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:৫৭
 
মেহেরপুরে মৃত্যুর অনুমতি চাওয়া সেই তিনজনের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মুম্বাইয়ের নিউরোজেন ব্রেইন অ্যান্ড স্পাইন ইন্সটিটিউট নামের হাসপাতাল।
 
দুরারোগ্য 'ডুসিনি মাসকুলার ডিসট্রফি' রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভারতে নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা করার আগ্রহ প্রকাশ করায় আশার আলো দেখছেন দরিদ্র তোফাজ্জেল হোসেন ও তার পরিবার। দুই ছেলে ও নাতির চিকিৎসা ও ভরণ-পোষণের ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হয়ে তোফাজ্জেল হোসেন তাদের মেরে ফেলার অনুমতি চেয়ে গত ১৯ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। দেশি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে ভারতের ওই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খানের সঙ্গে। রবিবার বিকেলে নূর খানের সঙ্গে ঢাকায় দেখা করেন তোফাজ্জেল হোসেন। তার চিকিৎসার সমস্ত কাগজপত্র দেখান তাকে।
 
তোফাজ্জেল হোসেন জানান, তার মোবাইল ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নূর খানকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। খবরটি পাওয়ার পর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তোফাজ্জেল হোসেন। ধন্যবাদ জানান গণমাধ্যমকে। তিনি বলেন, 'গণমাধ্যমের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। তার সন্তান ও নাতির চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসছে বিভিন্ন সংস্থা। এ জন্য সব অবদানই গণমাধ্যমের।' মৃত্যুর আবেদনের বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রকাশ হলে দেশের অনেক হৃদয়বান ব্যক্তিও তাকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
 
মেহেরপুর শহরের বেড়পাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হোসেন দুই ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করেছেন। তাদের নিয়ে ঘুরেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে। কিন্তু মরণব্যাধি 'ডুসিনি মাসকুলার ডিসট্রফি' রোগের কোনো ওষুধ বিশ্বে আজও আবিষ্কার হয়নি। বড় ছেলে আবদুস সবুর (২৪), ছোট ছেলে রায়হান হোসেন (১৩) এবং নাতি সৌরভ হোসেন (৮) এ রোগে আক্রান্ত। বড় ছেলে এখন শয্যাশায়ী। ছোট ছেলে কোনোরকমে চলাফেরা করতে পারে। নাতি কিছুটা স্বাভাবিক এখনো। তাদের চিকিৎসা ব্যয় ও ভরণ-পোষণ মেটাতে পারছেন না তোফাজ্জেল হোসেন।
 
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হাবিব ইখতেখার আহমাদ জানান, সাধারণত মায়েদের কাছ থেকে ছেলেরা এ রোগে আক্রান্ত হয়। মায়েদের থেকে মেয়ে সন্তান আক্রান্ত হয় না। তবে ওই মেয়ের গর্ভের ছেলে সন্তান ও একই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যা এ পরিবারে ঘটেছে। ক্রমজমগত কারণে ছেলেদের এ রোগ হয়। প্রথমে তারা হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে শরীরের মাংসপেশি জমাট বেধে পঙ্গুত্ব এবং মৃত্যুবরণ করে।
 
ইত্তেফাক/এসএস