নাটোরে প্রশিক্ষণরত ফ্রিল্যান্সাররা উপার্জন শুরু করেছে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:৫২
নাটোরে ছয়টি ল্যাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেড় শ শিক্ষার্থীকে প্রফেশনাল আউট সোর্সিং কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আর্নিং অ্যান্ড লার্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ২০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণকালেই অন-লাইনে উপার্জন শুরু করেছে।
 
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কমপক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এবং ন্যূনতম প্রযুক্তি ও ইংরেজি জ্ঞানসম্পন্ন আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হয়। নাটোরে মোট ২৭৫ জনসহ সারা দেশে ১৩ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে ডিজিটাল মার্কেট, গ্রাফিক্স ডিজাইন অথবা ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উপর ৫০ কর্ম দিবসে ২০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হচ্ছে।
 
নাটোরে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ই-জেনারেশনের সমন্বয়কারী রকিবুল ইসলাম জানান, কয়েক হাজার অন-লাইন আবেদনকারীর মধ্য থেকে সাক্ষাতকারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হয়েছে। নাটোরের ছয়টি ভেন্যুতে বর্তমানে ১৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। প্রশিক্ষণ ভেন্যুর মধ্যে রয়েছে নাটোর সদরে নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, হয়বতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি, সিংড়া উপজেলায় দমদমা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলমের শেখ রাসেল আউট সোর্সিং ভবন এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া কৃষি ও কারিগরি কলেজ। পর্যায়ক্রমে আরো পাঁচটি ভেন্যুতে ১২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ খুব শিগগিরই শুরু হবে।
 
সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, প্রশিক্ষণার্থীদের বেশির ভাগ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছয়টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতেই প্রায় শতভাগ প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত। চলছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া সিংড়ার দমদমা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক ইমরান আলী বলেন, প্রশিক্ষণে এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা অন লাইন মার্কেট প্লেস সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।
 
হয়বতপুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নাটোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরাও প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। রাজশাহী কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ডিজিটাল মার্কেট সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর এসব মার্কেটে আমরা আমাদের প্রোফাইল সাবমিট করে কাজ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী মো. শহিদ মিয়া বলেন, ব্রডব্যান্ড চালু থাকলে কাজের গতিশীলতা আসত।
 
নাটোরের রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক অধ্যাপক দেওয়ান জুয়েল রহমান জানান, প্রথম পর্যায়ের ১০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের পর প্রোফাইল আপডেট, বিড, ওয়েব সাইট ক্রিয়েটিং বিষয়ে ৬০ নম্বর এবং প্রোগ্রাম ল্যাংগুয়েজ বিষয়ে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রশিক্ষণ সময় এবং কার্যক্রমে অগ্রগামী নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশিক্ষক রাসেল কবির জানান, ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে আটজন এরই মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন তৈরি করে উপার্জন শুরু করেছে।
 
প্রশিক্ষণার্থী মো. মানিক হোসেন ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ তৈরি করে ১০০ ডলার উপার্জন করেছে। প্রশিক্ষণার্থী রঞ্জন কুমার সরকার বলেন, একটি টি-শার্টের ডিজাইন করে ২৫ ডলার পেয়েছি। মেহেদী হাসান রবিনের উপার্জন ২৮ ডলার। তিনি পয়লা বৈশাখের ব্যানার ও লোগো তৈরি করে দিয়েছেন। কামরুন নাহার কানন বলেন, খুব সহজেই একটি ব্যানার ডিজাইন করে ১০ ডলার আয় করেছি। খায়রুল ইসলামের উপার্জন ৫২ ডলার।
 
ই-জেনারেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে পরবর্তীতে প্রশিক্ষণার্থীদের কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ৩ মাসের প্রশিক্ষণ পরবর্তী প্লেসমেন্ট সময়ে প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অন লাইনে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা তৈরিসহ প্রত্যেককেই উপার্জনক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।
 
বস্তুত অমিত সম্ভাবনাময় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কর্মরাজ্য অন-লাইন মার্কেট। এই মার্কেটে চাহিদা অনুযায়ী কার্যক্রম শেখার পাশাপাশি মার্কেটের সঙ্গে পরিচিতি ও প্রতিযোগিতায় বিজয় হওয়ার কৌশল প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীরা রপ্ত করছেন। মেধাকে একটুখানি শাণিত করতে পারলেই অবারিত উপার্জনের হাতছানি।
জুন ২০১৭ মেয়াদকালীন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির আভাস দিয়ে আর্নিং অ্যান্ড লার্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার নাথ বলেন, নিঃশেষহীন অন লাইন মার্কেটে আরো বেশি ফ্রিল্যান্সারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পৃক্ত করতে পারলে সুফল বাড়বে, অর্জিত হবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধি। বাসস
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ