রাজশাহীতে গাছে গাছে আমের মুকুল

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:২০
মাঘ মাস শেষের দিকে। হাড়কাঁপানো শীতের শেষ ঝাঁকুনিটাও সম্ভবত শেষ। সময়ের পালাবদলে ঋতুরাজ বসন্ত কড়া নাড়ছে দুয়ারে। বাড়ছে তাপমাত্রা। তাপমাত্রা বাড়ায় রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে নানা ফুলের সঙ্গে মৌ মৌ সুবাস ছড়াচ্ছে আমের মুকুলও।
 
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে নানা ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আকাশে বাতাসে মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা করে তুলেছে। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাস নাড়া দিচ্ছে মানুষের হূদয়েও। বনফুল থেকে মৌমাছির দল গুণগুণ করে ভিড়তে শুরু করেছে এসব আমের মুকুলে। গাছের শাখার পর শাখায় মুকুলগুলো চারদিকে যেন বসন্তের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। বৃহত্তর রাজশাহীর চার জেলা যথাক্রমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর অধিকাংশ এলাকাতেই এখন কম-বেশি দেখা দিয়েছে আমের মুকুল।
 
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলায় ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে রয়েছে আম বাগান। এবার একটু আগেই শীত কমে আসায় প্রতিটি বাগানেই কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুল এসেছে। আর ১৫ দিনের মধ্যে ২০-৩০ ভাগ গাছে মুকুল আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যেই অন-ইয়ার গাছগুলোতে মুকুল চলে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
 
এদিকে গাছে গাছে আগাম মুকুল আসায় বেজায় খুশি রাজশাহী অঞ্চলের আম চাষীরা। তারা আম গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যাও শুরু করে দিয়েছেন। মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত ও আশ্বিনা জাতের আম গাছ বেশি। সেই সঙ্গে গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪ জাতের বাগানও রয়েছে। চাষীরা আশা করছেন, এবার আমের ফলন ভালো হবে।
 
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মিলিকবাঘা গ্রামের আম চাষি কায়সার রহমান (৪০) জানান, ‘এ বছরের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ অনুকূল। তাই একটু আগেভাগেই মুকুল এসেছে গাছে। গতবারের মতো এ মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়ার তেমন বিপর্যয়ও ঘটেনি। আশা করছি- ফাগুণ আসার সাথে সাথে সব আম গাছ মুকুলে ভরে উঠবে।’
 
রাজশাহী জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আম গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল ও গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাগানে দুই দফা ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। এতে ছত্রাক জাতীয় রোগ থেকে আমের মুকুলগুলো রক্ষা পাবে। সেই সাথে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।
 

ইত্তেফাক/এএম।