বগুড়া কলেজে অতিরিক্ত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২১:০০
অবকাঠামো না থাকলেও বগুড়া কলেজে এক হাজার আটশ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের বসার জন্য আলাদা ছাপড়া ঘর ও বারান্দায় বেঞ্চ বসানো হচ্ছে। অভিযোগ করা রয়েছে, কৌশলে এসব করা হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে এসব কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ও বগুড়া সদরের ধাওয়াপাড়াস্থ বগুড়া কলেজের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠেছে বগুড়া কলেজে কি মধু আছে ?
 
 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া কলেজে পরীক্ষা দিতে পারবে প্রায় নয়শ জন। অথচ সেখানে পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে এক হাজার আটশ জনের। আর এই এক হাজার আটশ জন পরীক্ষার্থী সরকারি শাহ সুলতান কলেজের। তারা বগুড়া কলেজে পরীক্ষা দেবে। আর বগুড়া কলেজের ২৫৬ জন পরীক্ষার্থী সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পরীক্ষা দেবে। 
 
অভিযোগে বলা হয়, সরকারি শাহ সুলতান কলেজে নিয়মিত ছাত্র ভর্তি হয়েছে এক হাজার নয়জন। অথচ পরীক্ষা দিচ্ছে এক হাজার ৭৯২ জন। বাকি পরীক্ষার্থী সরকারি শাহ সুলতান কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রলোভন দিয়ে টিসি (ছাড়পত্র) নিয়ে আসা ছাত্রদের ভর্তি করিয়ে নিয়েছে।  গত তিন বছর যাবত এইচএসসি পরীক্ষায় সরকারি শাহ সুলতান কলেজের কেন্দ্র হচ্ছে বগুড়া কলেজ। 
 
অভিভাবকদের তরফ থেকে শিক্ষামন্ত্রী, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ জেলা প্রশাসকের নিকট দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, বগুড়া কলেজে সিট পড়লে অসদুপায়ে পাস করার সুযোগ বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া ভালো ফলাফল করে কলেজের সুনাম বৃদ্ধির জন্য শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ এবং বগুড়া কলেজের অধ্যক্ষ যোগসাজশ করে বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে ১০ হাজার করে টাকাও নিয়েছেন।
 
সরকারি শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এজাজ আহম্মেদের  সঙ্গে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি জরুরি কাজে কলেজের বাইরে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 
বগুড়া কলেজের অধ্যক্ষ একেএম মঈন উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও শাহ সুলতান কলেজ কর্তৃপক্ষের চাপে তড়িঘড়ি করে টিনসেড ঘর নির্মাণ করে পরীক্ষা নেওয়ার বন্দোবস্ত করতে হচ্ছে। মূল অবকাঠামোর বাইরে অতিরিক্ত ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রায় পনেরোশ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।’ 
 
রাজশাহী বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আনোয়ারুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা সন্নিকটে আসায় এখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা। তবে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ 
 
 
 
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
 
ইত্তেফাক/অনি